চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিএনপির একক প্রার্থিতার চ্যালেঞ্জ

ইউপি নির্বাচন: চট্টগ্রাম

বিএনপির একক প্রার্থিতার চ্যালেঞ্জ

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

বছরের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য আগামী সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে ইসি। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে নিয়েছে সংস্থাটি। ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এদিকে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার স্থানান্তরের সময়সীমা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত বুধবার ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর সই করা একটি চিঠি সবকটি নির্বাচন অফিসে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন উপলক্ষে ভোটার স্থানান্তরের আবেদন দাখিলের শেষ তারিখ ৭ সেপ্টেম্বর। ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা শেষ করতে বলা হয়েছে।

 

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সরকারি দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এরই মধ্যে নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদের সব জায়গায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ এলাকায় পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়ে জনসংযোগও শুরু করেছেন। বেশির ভাগ ইউনিয়নে তিন-পাঁচজন বা আরও বেশি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করা বিএনপির সামনে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

একক প্রার্থিতার নির্দেশ: দলীয়ভাবে একক প্রার্থিতার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ৯ আগস্ট চট্টগ্রাম সফর করে গেছেন তিনি। ওইদিন চট্টগ্রামের তিন সাংগঠনিক ইউনিট (চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা) নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান তারেক রহমান। স্থানীয়ভাবে সমঝোতার মাধ্যমে দলের একক প্রার্থী করানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘দলে একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে। এক্ষেত্রে কাউকে নির্বাচন করার সুযোগ, আর কাউকে দলের পদ-পদবি পাওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলীয় প্রার্থী বিজয়ী হতে হবে।’

 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারাদেশের মহানগর ও জেলা নেতাদের সঙ্গে যে মতবিনিময় সভা করে তিনি দলীয় ঐক্য ও একক প্রার্থীকে সমর্থনের বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন।

 

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত মতে, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবো। উপজেলা বিএনপি কমিটি, জেলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ সকলের মতামতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।’ কমিটি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দল একটি সাংগঠনিক টিম করে দেবে। সকলের মতামতের ভিত্তিতে সাংগঠনিকভাবে একক প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’

 

একক প্রার্থিতার চ্যালেঞ্জ: মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্টার-ব্যানার ও বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। এসব বিলবোর্ডে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিয়েছেন।

 

বোয়ালখালীতে হাট-বাজার ও জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে। দেখা যায়, শাকপুরা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেতা সরোয়ার আলমগীর ও ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পেয়ার মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন। এখন অন্তত আরও ৫-৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তৎপরতা শুরু করেছেন। ৫ আগস্টের পর সক্রিয় হয়ে উঠা অনেকেই এখন বিএনপির প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে পোস্টার-ব্যানার সাটিয়েছেন। আবার অনেকেই গড়ে তুলেছেন শহীদ জিয়া ও বেগম জিয়ার নামে ভূইফোঁড় সংগঠন। দলীয় পদ-পদবি না থাকায় অনেকেই এসব সংগঠনের ব্যানারে প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন।

 

সবমিলিয়ে একক প্রার্থী ঘোষণা করা বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। তাদের অভিমত, উত্তর জেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। এখনো নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। জেলার সবকটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া পূর্বকোণকে বলেন, ‘গত ২২ জুন দক্ষিণ জেলার উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের সম্মতি চেয়ে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলাম। কারণ তৃণমূল কমিটি না থাকলে একক প্রার্থী ঘোষণা কঠিন হবে। একই সঙ্গে পদ-পদবি না থাকলে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। আশা করছি, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে তৃণমূল কমিটি গঠনের সম্মতি দেবে কেন্দ্রীয় কমিটি।’

 

গ্রাম-গঞ্জে তোড়জোড়: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে জেলার গ্রাম-গঞ্জে সরব হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। জনসমাগম এলাকায় সাঁটানো হয়েছে পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড। সম্ভাব্য প্রার্থী ছাড়াও পছন্দনীয় নেতা-প্রার্থীর পক্ষে পোস্টার-ব্যানার সাঁটিয়েছে কর্মী-সমর্থকেরা। প্রচারে আরও এক ধাপ এগিয়ে চলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিএনপিদলীয় প্রার্থীরা মাঠে-ঘাটে জোরালো প্রচার শুরু করেছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘন ঘন যোগদান করে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দোয়া নিচ্ছেন।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট