চলতি বছরে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইনে যুক্ত হচ্ছে আড়াই কোটি লিটার পানি। নগরের বিভিন্ন স্থানে ২০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে পানির জোগান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা। ওয়াসার দাবি, গ্রীষ্ম ও শুষ্ক মৌসুমে কর্ণফুলী-হালদার পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যায়। সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদন সক্ষমতা আরও ৫০ কোটি লিটার বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। মোহরা, মদুনাঘাট ও রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী পানি শোধনাগার-এই তিন প্রকল্পের পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই পানি ওয়াসায় যুক্ত হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘ওয়াসার নিজস্ব প্রকল্পের মাধ্যমে ২৫টি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি নলকূপ থেকে দিনে ১০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা হবে। শুষ্ক মৌসুমে কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যায়। এসময় সুপেয় পানির সংকট সৃষ্টি হয। সেই কথা চিন্তা করে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ৭টি গভীর নলকূপ বসানোর কাজ প্রায় শেষ। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার পর আগামী মাস থেকে এসব নলকূপ থেকে পানি উৎপাদন শুরু হবে।’
ওয়াসা জানায়, এ প্রকল্পের অধীনে ২০টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮ কোটি ৯৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে। প্রকল্পে ১৬ বাই ৮ ব্যাসের ২০টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। ৩৫টি টেস্ট টিউবওয়েল খনন করা হবে। ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে। এ প্রকল্পের অধীনে ২ লাখ মানুষকে পানি সরবরাহ করা যাবে। ওয়াসার এমডি সেলিম মো. জানে আলম এই বিষয়ে বলেন, ‘এই ২০টি ছাড়াও আরেক প্রকল্পে আরও ৫টি গভীর নলকূপ বসানো হবে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের অধীনে ৪৫টি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ ওয়াসার প্রকল্প প্রস্তাবনা নথিতে বলা হয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে সাগরের লবণাক্ত পানি কর্ণফুলী ও হালদায় প্রবেশ করে। এরফলে পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যায়। এজন্য ওয়াসার পানি শোধনাগারগুলোর পানি উৎপাদন ক্ষমতা ক্রমাগত কমে যায়। এসময় পানি সংকট দেখা দেয়। এসব কারণে গ্রীষ্ম ও শুষ্ক মৌসুমে নগরীতে পানির সংকট সৃষ্টি হওয়ায় সুপেয় পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। পানির অভাবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুর্বিষহ জীবনযাপন করতে হয়। একইভাবে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে দিনে পানির চাহিদা ৬৫ কোটি লিটার। চাহিদার বিপরীতে পানি উৎপাদন করা হতো ৪৫-৪৭ কোটি লিটার। নতুন এমডি যোগদান করার পর উৎপাদন বাড়িয়ে ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত করা হয়। এরমধ্যে আবার ৩০ ভাগ পানি সিস্টেম লসের নামে নষ্ট হয়। তাই দিনে ২৫ থেকে ৩০ কোটি লিটারের ঘাটতি থেকে যায়। পানির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ২০৩২ সালে পানির চাহিদা ৭০ থেকে ৮০ কোটি লিটারে পৌঁছাবে। নগরবাসীর বিপুল পরিমাণ পানির চাহিদা মেটানোর জন্য তিনটি পানি শোধনাগারকে সম্প্রসারণ করে পানি উৎপাদন ক্ষমতা আরও ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত করা হবে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, বর্তমানে ওয়াসার পানি উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ কোটি লিটার। এরমধ্যে রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী পরিশোধনাগার থেকে ২৮ কোটি, মোহরা ও মদুনাঘাট পরিশোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার করে পানি উৎপাদন হয়। অবশিষ্ট পানি গভীর নলকূপের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। এছাড়া বোয়ালখালীর ভাণ্ডালজুড়ি শোধনাগার থেকে ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত গ্রাহক না পাওয়ায় পুরোদমে উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে কর্ণফুলী নদীর টানেল ব্যবহার করে দিনে দুই কোটি লিটার পানি নগরে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ওয়াসা।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম পূর্বকোণকে বলেন, রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী, মোহরা ও মদুনাঘাট পরিশোধনাগারকে সম্প্রসারণ করে পানি উৎপাদন সক্ষমতা আরও ৫০ কোটি লিটার বাড়ানো হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এসব পানি ওয়াসায় যুক্ত হবে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, ‘আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে নগরীতে কোনো গভীর নলকূপ রাখতে চাই না। তাই ওয়াসার প্রকল্পগুলোর পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো ও নতুন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে পানি উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সম্প্রসারণে পাইপলাইন বসাতে হবে না। দাতা সংস্থা অর্থায়নের জন্য সম্মতি দিয়েছে। সমীক্ষা শেষে ৬-৭ মাসের মধ্যে টেন্ডারে যেতে পারবো বলে আশা করছি।’
পূর্বকোণ/আদর

















