চট্টগ্রাম রবিবার, ০২ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

অনুমোদন মেলেনি চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ বার্থে অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব

নতুন প্রক্রিয়ায় আবারও দরপত্রের উদ্যোগ

অনুমোদন মেলেনি চট্টগ্রাম বন্দরের ৬ বার্থে অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক

২ আগস্ট, ২০২৬ | ১২:৪৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এলাকার ছয়টি বার্থে আগামী পাঁচ বছরের জন্য বার্থ অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত ২৬৪ কোটি ৫ লাখ টাকার দরপত্র প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়নি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

গত ২২ জুলাই অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাবটি পাস না করে ফেরত পাঠানো হয়। একই সাথে পুরো বিষয়টি আবার পর্যালোচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা যায় সে বিষয়ে সুপারিশ দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গত ২৯ জুলাইয়ের অফিস আদেশে জানা যায়, গঠিত নতুন এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে। এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বন্দর অনুবিভাগের যুগ্মসচিবকে কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি আগের দরপত্র প্রক্রিয়ার সব বিষয় পর্যালোচনা করবে এবং পরবর্তীতে নতুন করে দরপত্র ডাকার জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সুপারিশ প্রদান করবে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জিসিবি এলাকার ছয়টি বার্থে জাহাজে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজে নিয়োজিত বর্তমান অপারেটরদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন অপারেটর নিয়োগের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ পিপিআর-২০২৫ নীতি অনুসরণ করে ‘এক ধাপ, দুই খাম’ পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রে মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়, যার মধ্যে কারিগরি মূল্যায়নে ১১টি প্রতিষ্ঠান গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এরপর আর্থিক প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি প্রতিটি বার্থের জন্য সর্বনিম্ন দরদাতাকে পাঁচ বছরের জন্য কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে।

মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বার্থ-২-এর জন্য ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায় মেসার্স রুহুল আমিন অ্যান্ড ব্রাদার্স, বার্থ-৩-এর জন্য ৪৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় এ ডব্লিউ খান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, বার্থ-৪-এর জন্য ৪৪ কোটি ১ লাখ টাকায় ইউনাইটেড ট্রেডিং কোম্পানি, বার্থ-৫-এর জন্য ৪৪ কোটি টাকায় কসমস এন্টারপ্রাইজ, বার্থ-৭-এর জন্য ৪৪ কোটি টাকায় ফোর জুয়েল স্টিভেডরিং সিন্ডিকেট লিমিটেড এবং বার্থ-৮-এর জন্য ৪৪ কোটি ২ লাখ টাকায় পঞ্চরাগ উদয়ন সংস্থাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সবকটি বার্থ মিলিয়ে মোট দরমূল্য দাঁড়ায় ২৬৪ কোটি ৫ লাখ টাকা।

এদিকে, সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠালেও এর নির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করেনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, সরকারি সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো কোনো চিঠি পাননি। মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি সিদ্ধান্তের চিঠি বন্দরে পৌঁছানোর পরই সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।

 

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট