চট্টগ্রাম রবিবার, ০৫ জুলাই, ২০২৬

‘অভিভাবকহীন’ আড়াই কিলোমিটারে নরক যন্ত্রণা

‘অভিভাবকহীন’ আড়াই কিলোমিটারে নরক যন্ত্রণা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

৫ জুলাই, ২০২৬ | ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলীর স্বচ্ছ জলরাশির মুগ্ধতা ছড়ানো আবেশে কালুরঘাট সেতু পেরিয়ে আসতে হয় স্বপ্নের শহরে। কিন্তু শহরে পা রাখতেই যানজট-জঞ্জালে তিক্ত-বিরক্ত কাহিল অবস্থা। রাস্তার ওপর বাসস্টেশন, গ্যারেজ, কাঁচা বাজার, ফুটপাতে অবৈধ দোকান, ময়লার স্তূপ।

নগরীর প্রবেশমুখ কালুরঘাট-খেজুরতলার বর্জ্যরে বিদঘুটে-দুর্গন্ধে নাক বন্ধ করে ঢুকতে হয়। আর রেলের শত শত একর জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বালু-বাণিজ্য। প্রধান সড়কের ওপর কাঁচা বাজার। ফুটপাত ঢুকে গেছে দোকানদারদের পেটে। অথচ এই চট্টগ্রাম শহরকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটির’ স্বপ্ন দেখানো হয়। তবে কালুরঘাট সেতু থেকে সিএন্ডবি পর্যন্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে দখলদারিত্ব, জঞ্জাল আর নৈরাজ্য। মাত্র আড়াই কিলোমিটার পথ পেরোতে জনজীবন একেবারে হাঁসফাঁস ও নাভিশ্বাস অবস্থা।

নির্বিকার চসিক
রাস্তার অর্ধেক দখলে গ্যারেজ দোকান বালু-বাণিজ্য

আরাকান সড়কের কালুরঘাট থেকে সিএন্ডবি রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার। উত্তর ও দক্ষিণের বাসিন্দাদের বড় অংশ শহরে যাতায়াত করে এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু শহরে ঢুকতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও ফুটপাট দখল করে গাড়ির গ্যারেজ, দোকান, ভাসমান দোকান ও বালু বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে ওঠেছে। চার লেনের সড়কটির অর্ধেক বেদখলে চলে গেছে। যার কারণে যানবাহন

চলাচলে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। জনভোগান্তি চরম আকার ধারণে করেছে। কিন্তু এসবের দেখভালোর দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থা সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন একেবারেই নির্বিকার।

সরেজমিনে দেখা যায়, কালুরঘাট থেকে মোহরা অংশে চার লেন সড়কের অর্ধেক দখল করে নিয়েছে গাড়ির গ্যারেজ ও মেরামত কারখানায়। এছাড়া সড়কের ওপর ইট-বালুর বিক্রয়কেন্দ্র ও ভাসমান-ভ্যান দোকান বসিয়ে রাস্তা দখল করে নিয়েছে। এছাড়া বাহির সিগনাল থেকে সিএন্ডবি পর্যন্ত একইভাবে রাস্তার দুই ধারে রয়েছে গাড়ির গ্যারেজ, দোকানের নানা পসরা বসানো হয়েছে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে বালুর টাল এলাকায়। বালুর টাল এলাকায় রাস্তার ওপর রয়েছে বালুর স্তূপ। রাস্তায় চলে বালু বেচাকেনা। ট্রাকে বালুর উত্তোলনের জন্য রাখা হয়েছে স্কেভেটর। রাস্তার ওপর বালুর স্তূপ ও বালু বেচাকেনার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইমরুস কায়েস বলেন, বাহির সিগনাল থেকে বালুর টাল পর্যন্ত এলাকাটিতে দিন দিন যানজট ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। আর সারা বছরজুড়ে বিভিন্ন সংস্থার রাস্তা খোড়াখুঁড়ির ভোগান্তি তো লেগে থাকে। তার ওপর রাস্তা দখল করে গাড়ির গ্যারেজ ও বালু বেচাকেনাও চলে। সিটি করপোরেশন ও পুলিশ প্রশাসন যেন এ বিষয়ে কানা মামার ভূমিকায় রয়েছেন।

রেলের জায়গা দখল করে বালু-বাণিজ্য, জেগে ঘুমাচ্ছে রেল

কালুরঘাট সেতু এলাকায় রেল লাইনের দুই পাশে শত শত একর জায়গা দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের বশে রেখে বালুখেকোরা রেলের জায়গা দখল করে বালু-বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে ছিল রেলের শত শত একর জায়গা। কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালু উত্তোলন থেকে শুরু করে নদী-খালের তীর দখল করে গড়ে তুলেছিলেন শতাধিক বালু-বিক্রয় কেন্দ্র। কালুরঘাট সেতু থেকে খেজুরতলা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে রেলের শত শত একর জায়গা দখল করে বালু-বিক্রয় কেন্দ্র বানিয়েছিল। রাজনীতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বড় থেকে শুরু করে পাতি নেতারা পর্যন্ত রেলের জায়গা দখল করে বালু-বাণিজ্য করেছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙে রেলের। রেলের বিট দিয়ে দীর্ঘদিন বেদখল হওয়া জায়গা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় রেল। কিন্তু যে লাউ সেই কদু। রেলের বিট কেটে পুরানো কায়দা বেদখল হয়ে গেছে রেলের সেই জায়গা। রেলের সুরক্ষা ভেঙে ফের বেদখল হয়ে গেছে শত শত একর জায়গা। আর রেলে চোখ বন্ধ করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছে সেই দৃশ্য।

সরেজিমনে দেখা যায়, কালুরঘাট খেজুরতল, ফেরিঘাট ও খালের তীর ঘেঁষে রয়েছে অর্ধ শতাধিক বালু-বিক্রয় কেন্দ্র। এসব জায়গায় রেলের বিট দিয়ে ঘেরা রয়েছে। তবে প্রবেশমুখে রেলের বিট কেটে বালুবাহী ট্রাক চলাচল করছে। অবৈধ দখলদার মুক্ত করার সুরক্ষা বিট কেটে পুরোদমে বালু-বাণিজ্য চলে আসলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি রেল। রেল যেন জেগে ঘুমিয়ে রয়েছে।

দেখা যায়, কালুরঘাট ও খেজুরতলা এলাকায় আরাকান সড়ক দখল করে পার্কিং করেছে অন্তত শতাধিক মিনি ট্রাক। এসব ট্রাকে করে বালু পরিবহন করা হয়। গত সোমবার খেজুরতলা এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা অন্তত পাঁচজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা বললেন, রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা রেলের শত শত একর জায়গা দখল করে লুটেপুটে খাচ্ছে। রেলের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এই দখলদারিত্ব চলে আসছে। সরকার যায়, সরকার আসে রেলের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত হয় না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বাঞ্চলীয় রেলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, ‘কানুনগো পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই এলাকাবাসী জানান, বালুবাহী ট্রাকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে এখানে দুর্ঘটনা ও যানজট নিত্যনৈমিত্তিক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চান্দগাঁও-কালুরঘাট ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বালুর ট্রাকের চেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলারগুলো। এসব যানবাহনের চালক ও হেলপারেরা বেপরোয়াভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে।’

রাস্তার ওপর বাজার দায়সারা চসিক, নিশ্চুপ রেল-সওজ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তালিকা বলছে, গরুর মাংস বিক্রেতা ৫০ টাকা, তরি-তরকারি প্রতি লাই ১০ টাকা, তরকারি খুচরা বিক্রেতা ১৫ টাকা করে হাসিল আদায় করবে ইজারাদার। সিটি করপোরেশনের কাগজে-কলমের হিসাব। চান্দগাঁও থানার মোহরা ওয়ার্ডের কাজির হাটে গিয়ে দেখা যায়, চসিকের নির্ধারিত হাসিল তালিকার ছিটেফোঁটাও নেই। হাসিলের নামে যাচ্ছেতাই আদায় করা হয়। বাজার ছাপিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত হাসিল তোলা হয়। চসিক এক কোটি ৩৮ লাখ ২ হাজার টাকায় ইজারা দিয়েছে মোহরা কাজির হাট। ইজারা পেয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন মিয়া।

সরেজমিন দেখা যায়, মূল বাজার পেরিয়ে আরাকান সড়ক, জান আলী হাট রেল স্টেশন সংলগ্ন রেল লাইনের আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে বাজার বসে। সিটি করপোরেশন বাজার ইজারা দিলেও রেল ও সওজের রাস্তা পর্যন্ত বাজার ছড়িয়ে পড়েছে বাজার। এসব জায়গা থেকেও হাসিল আদায় করে ইজারাদার। শুধু তাই নয়, রাস্তা ও ফুটপাট দখল করে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকান থেকে চাঁদা তোলা হয়।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাজির হাট বাজার সিটি করপোরেশন ইজারা দিয়ে দায় সারে। বাজার ছাড়া আশপাশের আধা কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত হাসিলের নামে চাঁদা তোলা হয়। এমনকি রেলওয়ের বিশাল জায়গা দখল করে কাঁচা বাজার বসে। অপরদিকে, সওজের আরাকান সড়কের জায়গায়ও বাজার বসে। দীর্ঘদিন ধরে হাসিলের নামে মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করা হয়। এ বিষয়ে কানা মামার ভূমিকায় রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

দেখা যায়, প্রতি শুক্র ও মঙ্গলবার কাজিরহাট এবং রাস্তার মাথা এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়। বাজার বসে আরাকান সড়কে। রাস্তার একদিকে দুই স্তর করে তরি-তরকারি থেকে শুরু করে মাছ বাজার বসে। চার লেনের সড়কের অর্ধেক দখল করে কাঁচা বাজার বসানো হয়। এতে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এমনকি জরুরি সেবা সংস্থা বা এম্বুলেন্স পর্যন্ত চলাচলে বেগ পেতে হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও কক্সবাজার রেল লাইন ঘেঁষে বিশাল জায়গা দখল করে বাজার বসে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত বাজার ছাপিয়ে আশপাশের সড়ক ও রেল লাইনের পাশে বাজার বসানো হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ফুটপাতের অবৈধ দোকান ও ভ্যান থেকে দিনে হাসিলের নামে ১০০-২০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। আর ফলমূলের দোকান থেকে আদায় করা হয় ৩০০-৫০০ টাকা। অন্তত দুই শতাধিক দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। আর প্রতি শুক্রবার ও মঙ্গলবার সবমিলিয়ে দুই-আড়াই হাজার দোকান বসে। দোকানভেদে ৩০০-৫০০ টাকা আদায় করা হয়। মাছের দোকান থেকে আরও বেশি আদায় করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থায়ী দোকানদার বলেন, স্থায়ী দোকানগুলো চাঁদা থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কাজির হাট থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত এলাকা থেকে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাস্তা-ফুটপাট থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করেছিল। গণ-অভ্যুত্থানের পর তারা পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন চাঁদাবাজি বন্ধ ছিল। এখন পুরোনো কায়দায় রাস্তা-ফুটপাটের দোকান থেকে চাঁদাবাজি শুরু হয়েছে।

কালুরঘাট বাসের নৈরাজ্য, ভঙ্গুর ট্রাফিকব্যবস্থা

কালুরঘাট সেতু সংলগ্ন এলাকায় কালুরঘাট বাসস্টেশন। এখান থেকে নগরীর ১ ও ২ নং রুটের মিনিবাস-হিউম্যান হলার চলাচল করে। কিন্তু স্টেশনটি কোথায়। নির্দিষ্ট কোনো স্ট্যান্ড নেই। রাস্তাই যেন বাসস্ট্যান্ড। সড়কে এলোমেলো ও এবড়ো-থেবড়োভাবে বাস রাখা হয়। এতে সেতু পারাপার হওয়া যানবাহনগুলোকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়তে হয়। যানবাহন চলাচল দুরূহ হয়ে পড়ে।

সরকারি ছুটি বা বিশেষ দিবসে সেতুতে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এসময় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থা না থাকায় যানজট সহজে লাঘবের উপায় থাকে না। বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণে হাজার হাজার যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্দশা ভোগ করতে হয়।
এই পথের নিয়মিত যাত্রী কামাল উদ্দিন বলেন, ‘চাকরির কারণে সপ্তাহে ছয়দিন শহরে আসা-যাওয়া করতে হয়। কিন্তু কালুরঘাট সেতু পারাপার মহাদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসগুলো ইচ্ছেমতো রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখে। যেন এক মগের মুল্লুক। কেউ প্রতিবাদ করলে হেনস্তার শিকার হতে হয়। বাসচালক ও হেলপারদের নিয়ন্ত্রণে মনে হয় কেউ নেই। অভিভাবকহীন অবস্থা।

চট্টগ্রাম কালুরঘাট বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার মালিক সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন পূর্বকোণকে বলেন, ‘রেলওয়ের ইজারাকৃত জায়গা আমাদের বাসস্টেশন ছিল। সেতুর সংস্কার কাজের সরঞ্জাম রাখার জন্য জায়গাটি ছেড়ে দিতে হয়েছে। পুরনো স্টেশনে ফিরে যেতে পারলে সেতু এলাকায় আর যানজট সৃষ্টি হবে না।’ কালুরঘাটে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে ছয়টি সমিতির বাস-মিনিবাস চলাচল করে। একটি সমিতি হলে যান চলাচলে শৃঙ্খলায় ফিরবে বলে মনে হয়।’

ট্রাফিক পুলিশের চান্দগাঁও এলাকার পরিদর্শক (টিআই) নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কালুরঘাটে স্থায়ী ট্রাফিকব্যবস্থা নেই। বড় যানজট বা জটিলতা সৃষ্টি হলে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে সার্জেন্ট গিয়ে সমস্যা সমাধান করেন। এছাড়া কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িও সহায়তা করে। অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে।’

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট