চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

২৫ মন্ত্রণালয়ে চসিকের পাওনা ২শ’ কোটি টাকা 

ইমরান বিন ছবুর

৩০ জুন, ২০২৬ | ১২:০৪ অপরাহ্ণ

২৫ মন্ত্রণালয় ও তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পৌরকর (হোল্ডিং ট্যাক্স) বাবদ পাওনা রয়েছে ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ২৬২ টাকা। এরমধ্যে শুধুমাত্র রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছেই চসিকের পাওনা ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭২ টাকা। চসিকের রাজস্ব বিভাগের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দায়িত্ব নেয়ার পর এসব পাওনা আদায়ের জন্য চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোয় বারবার তাগাদা দিয়েছেন। 

চসিকের রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর ধরে এসব টাকা জমে রয়েছে। এরমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত চসিকের পাওনা ছিল ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ ৮১ হাজার ৯৮ টাকা। বাকি ৪২ কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ১৬৪ টাকা জমেছে ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত। সব মিলে মোট দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯৭ কোটি ৫৩ লাখ ৩২ হাজার ২৬২ টাকা।  

তালিকায় সবচেয়ে বেশি বকেয়া ও দাবির পরিমাণ রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের। এ মন্ত্রণালয়ের মোট বকেয়া ১১৩ কোটি ২৭ লাখ ১৩ হাজার ৪৭২ টাকা, যা মোট দাবির অর্ধেকেরও বেশি। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এ মন্ত্রণালয়ের কাছে চসিকের পাওনা ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৭ টাকা। 

এছাড়া, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ৪৩ লাখ ৪৬ হাজার ৭১৫ টাকা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের কাছে ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৩৩০ টাকা এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগের কাছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৮০৪ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ৯ কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯ টাকা। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের কাছে পাবে ১৩ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৪৫২ টাকা। কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাওনা ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার ২৮২ টাকা।

একইভাবে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাওনা ১ কোটি ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৯৪ টাকা।  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে পাওনা ৩ কোটি ৩২ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৭ টাকা। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৪২ হাজার ৩৩১ টাকা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ২ কোটি ২১ লাখ ২২ হাজার ৪১৪ টাকা, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ২ কোটি ২৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৪ টাকা এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে ২ কোটি ১৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৬ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণায়ের কাছে পাওনা ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৭২৩ টাকা, শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ১ কোটি ৫৭ লাখ ৬ হাজার ১৯৫ টাকা, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯১ টাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কাছে ২৬ লাখ ২৩ হাজার ২৯৪ টাকা, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের কাছে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৮৫ টাকা, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে ৫৮ লাখ ৯২ হাজার ৫৪২ টাকা। 

এছাড়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ১৪ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাওনা ২২ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫০ টাকা, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৭২৫ টাকা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৯০১ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা, মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৪১ লাখ ৩০ হাজার ৪৮০ টাকা এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৬৯৯ টাকা। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল বলেন, সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান উৎস পৌরকর। বকেয়া কর আদায়ে মেয়র মহোদয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সম্প্রতি আমরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা আদায় করেছি। বন্দর ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ চসিকের মোট পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পূর্ববর্তী বছরের বকেয়া ১৫৪ কোটি ৬৮ লাখ এবং চলতি অর্থবছরের দাবি প্রায় ৪২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

মেয়র আরো বলেন, বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে ডিও লেটার পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বকেয়া কর পরিশোধ হলে চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, সড়ক ও নাগরিক সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মেয়র।

পূর্বকোণ/পিবিরা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট