চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রবর্ত্তক মোড়ে হাঁটু পানির অজুহাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় টেম্পো চালকদের

প্রবর্ত্তক মোড়ে হাঁটু পানির অজুহাতে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় টেম্পো চালকদের

রাজীব রাহুল

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ৬:৪৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরী ব্যস্ততম সড়ক চকবাজার ওয়ালি বেগ খাঁ মোড় থেকে ২ নম্বর গেট রুটের প্রর্বত্তক মোড়ে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে থাকার বাহনায় দিগুণ ভাড়া আদায় করছেন টেম্পো চালকরা । তাতে যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। 

 

এবিষয়ে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকাল সাড়ে চারটায় চকবাজার ওয়ালি খাঁ মসিজিদ মোড়ে রাস্তার ওপর সারিবন্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা মাক্সিমা ( টেম্পো) গুলো দশটাকার স্থলে বিশ টাকা ভাড়া দাবি করছে। এ সময় উপস্থিত যাত্রীরা দিগুণ ভাড়া কেন নিচ্ছে জানতে চাইলে টেম্পো চালকরা বলেন, প্রবর্তক মোড়ে হাঁটুর ওপরে পানি এজন্য বিশটাকা ভাড়া।

 

 

পরে প্রবর্ত্তক মোড়ে এসে দেখা যায়, মোড়ে পুলিশ বক্সের সাইডে দেড় ফুটের মতো পানি জমে আছে। অন্যপাশে আধা ফুট উচ্চতায় পানি জমে আছে। এ সময় প্রবর্ত্তক মোড়ে কোন ট্রাফিক পুলিশ পাওয়া যায়নি। এদিকে ২ নং গেইট এলাকায়  বিকাল পাঁচটার সময় এক টেম্পো (চট্টমেট্রো ফ ১১২৯৭৭) চালককে দিগুণ ভাড়ার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ২০ টাকা কমে গাড়ি যাবে না। 

 

 

পরে ২ নং গেইট পুলিশ বক্সে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বসে আড্ডারত প্রবর্ত্তক মোড়ের ট্রাফিক সার্জেন্ট মফিজুর। পাশে বসা ২ নং গেইট এলাকায় দায়িত্বরত সার্জেন্ট জগন্নাথ। এ সময় প্রতিবেদক সার্জেন্ট মফিজুরের কাছে জানতে চাইলে তিনি উল্টো যুক্তি দিয়ে বলেন, আমি যদি বেশি ভাড়া কেন নিচ্ছে তার জন্য টেম্পো আটক করি, তখন যাত্রীরা যদি বলে টাকা বেশি দিচ্ছি আমি আপনার এত দরদ কেন? তখন আমি কী বলবো ? জবাবে প্রতিবেদক- যাত্রীরা এমন যুক্তি দিতে পারে না বলে অস্বীকার করলে তিনি উপস্থিত সার্জেন্ট জগন্নাথকে প্রতিবেদককে সাথে নিয়ে বিপ্লব উদ্যানের সামনে টেম্পো চালকদের কাছ গিয়ে দ্বিগুণ ভাড়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি যাচাই করতে বলেন। 

 

পরে প্রতিবেদকে সাথে নিয়ে সার্জেন্ট জগন্নাথ কালু নামের এক টেম্পো (চট্টমেট্রো ফ ১১২১৯৩) চালকের কাছে জানতে চান ভাড়া কত নিচ্ছে চকবাজারের। তিনি বিশ টাকা বললে সার্জেন্ট দশ টাকা নিতে হবে বলেন, অন্যথায় গাড়ি থেকে যাত্রী নামিয়ে দিতে বলেন। সে গাড়ি থেকে যাত্রীদের নামিয়ে দিলে সেই যাত্রীদের অন্য টেম্পো (চট্টমেট্রো ফ ১১২৩৭৬) চালক সুমনের গাড়িতে দশ টাকা ভাড়ায় তুলে দেন সার্জেন্ট জগন্নাথ। পরে পুনরায় পুলিশ বক্সে বসে থাকা সার্জেন্ট মফিজুরকে যখন জানানো হয়, আপনার যুক্তিতো মিলে নাই। উল্টো যাত্রীরা বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করছে। তখন তিনি তার মোবাইলে থাকা ভিডিও দেখিয়ে বলেন, সকালে প্রবর্ত্তক মোড়ে অনেক পানি ছিল এখন কমে গেছে। এ রকম যুক্তি দেখাতে গেলে প্রতিবেদক প্রর্বত্তক মোড়ে ডিউটি ছেড়ে তিনি  ২ নং গেইট কী করছেন জানতে চাইলে চুপ থাকেন।

 

এ সময় ফোরকান নামের এক যাত্রী জানান, সব টেম্পো চালক এক সিন্ডিকেট। তারা বিশটাকার নিচে যাচ্ছে না। মানুষ কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে। যেহেত এই রোডে বাস দেখা যায় না অথবা অন্য কোন গণপরিবহণ নেই তাই এসব টেম্পো চালকদের যেমন ইচ্ছা করছে। দেখার কেউ নেই। অথচ যে পানি জমা আছে তাতে গাড়ির চাকাও ডুবে না। আজ এ রকম করছে সামনে পুরো বর্ষা পড়ে আছে, জানিনা তখনও নতুন করে এই জুলুম বন্ধ হবে কিনা।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ১৬ নং সড়কের অন্য এক টেম্পো চালক রহিম (ছদ্মনাম) জানান, এই সড়কের টেম্পোগুলোর রুট পারমিট আছে মেডিকেল পূর্ব গেইট থেকে ফতেয়াবাদ পর্যন্ত কিন্তু ৯০ ভাগ চালক ২ নং গেইটের পর আর যান না। তাতে করে এই সড়কের যাত্রীদের হয়রানি কমছে না। তিনি আরও বলেন, প্রবত্তর্ক ও দু নম্বর গেইট এলাকার ট্রাফিক ইন্সেপেক্টর (টিআই) ১৬ নং সড়কের টেম্পো চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাইবে না। কারণ এই সড়কের বেশ কিছু গাড়ি পুলিশের নামে মান্থলি (মাসিক চুক্তি) করা।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট