চট্টগ্রাম বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল : পানির টাকা জলে, অরক্ষিত উপকূল

আজ ভয়াল ২৯ এপ্রিল : পানির টাকা জলে, অরক্ষিত উপকূল

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২:১১ অপরাহ্ণ

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চট্টগ্রামের উত্তর অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা : যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

 

বাঁশখালীর প্রেমাশিয়া এলাকার রোকেয়া বেগম (৫০)। জন্মের পর থেকেই ঝড়-জলোচ্ছ¡াস ও সাগরের সঙ্গে লড়াই করে টিকে ছিলেন। কিন্তু ১৯৯১-এর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে আর টিকতে পারেননি। বাপ-দাদার বসতভিটা ও জমা-জিরাত এবং স্বামী-সন্তানসহ ১৪ স্বজন হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হন তিনি। সর্বস্ব হারিয়ে এখন ঠাঁই নিয়েছেন সাধনপুরের বৈলগাঁও পাহাড়ের খুপরি ঘরে।

 

শুধু রোকেয়া বেগম নন, বাঁশখালী উপকূলীয় ৮ ইউনিয়নের কয়েক শত মানুষ বাস্তুভিটা হারিয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন। ৯১-এর পরবর্তীসময়ে বিভিন্ন দুর্যোগ-ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে বাঁশখালী ছাড়াও সন্দ্বীপ ও আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তু-বাস্তচ্যুত হয়েছে। প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও ব্যাপক প্রাণহানির বিভীষিকাময় স্মৃতি নিয়ে ফিরে

 

এসেছে সেই ভয়াল ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছিল উপকূলবর্তী এলাকায়। উপকূলীয় এলাকা চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছিল। প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত লক্ষাধিক মানুষ।

 

৯১-এর ঘূর্ণিঝড়ের পর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ টেকসই বেড়িবাঁধের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু ৩৫ বছরেও সেই স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে। অথচ বাঁধ সংস্কার-মেরামত ও নির্মাণের নামে খরচ হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা। বাঁধ নির্মাণে পানি টাকা যেন ‘জলে গেছে’। এখনো সুরক্ষিত হয়নি উপকূল।

 

গত বছরে দুই দফায় বাঁশখালীর খানখানাবাদ, কদমরসুল, প্রেমাশিয়া বাহারছড়া, কদমরসুল ইউনিয়নের অন্তত ১৬ কিলোমিটার এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা হয়। দেখা যায়, বেশির ভাগ এলাকায় বেড়িবাঁধ-ব্লক ধসে গেছে। জিও ব্যাগ তছনছ হয়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে ঝাউবনের শত শত গাছ। এক-তৃতীয়াংশ এলাকা অরক্ষিত।

 

সময় ও টাকাখেকো প্রকল্প :

 

বাঁশখালীতে ২০১৫ সালে ২০৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প একনেকে পাস হয়। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৩ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ হয় ২০২৩ সালে। প্রকল্পটিকে সময়-টাকাখেকো প্রকল্প বলা হয়। দুই বছর না পেরোতেই বাঁধের বিভিন্ন স্থান দেবে ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে।

 

বর্তমানে বাঁশখালী, আনোয়ারা ও বোয়ালখালীতে চলছে এক হাজার ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রকল্প। প্রকল্পগুলো চলছে কচ্ছপগতিতে। নদী ও সাগরের নোনাপানিমিশ্রিত বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।

 

সন্দ্বীপে ভয়াবহ চিত্র :

 

ভোগৌলিক অবস্থানগত কারণে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস প্রথম আঘাত হানে সাগরঘেরা স›দ্বীপে। ৫৬ কিলোমিটার উপকূলীয় এ জনপদের প্রধান সমস্যা সাগরের তীব্র ভাঙন। ২০২২ সালে ১৯৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়। ২০১৯ সালে সন্দ্বীপে ২০৫ কোটি টাকার বাঁধ নির্মাণ, ব্লক বসানো ও সংস্কার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই ‘চট্টগ্রাম জেলার স›দ্বীপে ৫৬২ কোটি ২১ লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। প্রকল্পের বেশির ভাগ কাজ পেয়েছে আওয়ামী লীগ ঘরানার ঠিকাদার। ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার পট পরিবতর্নের পর ঠিকাদাররা আত্মগোপনে চলে যায়। ফলে বর্তমানে প্রকল্পটি চলছে শম্ভুকগতিতে।

 

পটিয়ার চলছে ১৩শ কোটি টাকার :

 

পটিয়ায় প্রায় ১৩শ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর-১) বিভাগ। ১১শ ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প। অন্যটি ১৩৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে হাইড্রোলিক ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প। প্রকল্প দুটি চলছে কচ্ছপগতিতে। ড্যাম প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খ ম জুলফিকার তারেক এ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য দুবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন। পটিয়ার এই দুটি প্রকল্প ছাড়া সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার ডলু এবং শঙ্খ নদের ভাঙন প্রতিরক্ষারোধে ১৬৩ কোটি ৭৮ লাখ ৪১ হাজার টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়। পরে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

 

কর্ণফুলী ড্রেজিং ও ভাঙনরোধ প্রকল্প :

 

২০২৪ সালে কর্ণফুলী ভাঙনরোধে ১৩৪ কোটি নয় লাখ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে রাঙামাটি বিভাগ। একই বিভাগ ২০১৮ সালে প্রায় তিন শ ৯৮ কোটি ব্যয়ে কর্ণফুলী নদীর তীর সংরক্ষণ, প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পরে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের ‘ইচ্ছেপূরণ’ প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগ ও কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

 

ভয়াবহ ভাঙনে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ :

 

২০২৩ সালে তীব্র ভাঙনপ্রবণ নিয়ে সমীক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলরেখায় তীব্র ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৯৬০ থেকে ২০২০ সালের ৩০টি ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করে উপকূলীয় এলাকাকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ু নিয়ে চরম ঝুঁকির কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) আর্থ, এটমোস্ফিয়ারিক এবং প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস বিভাগের একদল গবেষক। গবেষণায় বলায় হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রামের উত্তর অংশ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ।

 

উপকূলীয় বাঁধ :

 

১৯৬০ সালে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁশখালী, আনোয়ারা ও সন্দ্বীপে ১০২ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে অধিকাংশ এলাকা লণ্ডভণন্ড ও বিধ্বস্ত হয়ে যায়। পরবর্তীসময়ে ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৮ সালে নারগিস, ২০০৯ সালের আইলার মতো ঘূর্ণিঝড়ে অনেক জায়গায় বাঁধ বিলীন হয়ে গেছে।


চলতি বছরে সুরক্ষিত হবে আনোয়ারা সাগর উপকূল

নিজস্ব সংবাদদাতা, আনোয়ারা

 

৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ‘৯১-এর সেই দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে আনোয়ারা উপজেলার উপক‚ল বাসিন্দাদের। সেই কথা মনে করে এখনো আতঙ্কে বুক ধড়ফড় করে ওঠে তাদের। আনোয়ারায় বর্তমানে ৩৪৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আট প্যাকেজের মধ্যে বর্তমানে ৬৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ পূর্বকোণকে বলেন, চলমান প্রকল্পটির ৬ প্যাকেজের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। এরফলে ৮ কিলোমিটার সাগর উপকূল এলাকা পুরোপুরি সুরক্ষিত হয়ে যাবে।

 

সরেজমিন দেখা যায়, রায়পুর ইউনিয়নের গহিরা, ফকিরহাট ঘাট ও বাইঘ্যারঘাট এলাকা এখনো পুরোপুরিভাবে সুরক্ষিত হয়নি। একইভাবে ছিবাতলী ঘাটসহ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের ফুল বাজার ও লামার বাজারের দক্ষিণে বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, আনোয়ারা উপক‚ল রক্ষায় ২০১৬ সালের ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। পরে প্রকল্পের বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে চলমান প্রকল্পে আট প্যাকেজের মধ্যে চার প্যাকেজের কাজ চলছে নৌবাহিনী তত্ত¡াবধানে। এই চার প্যাকেজের কাজ প্রায় ৮৫ শতাংশ এগিয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বর্ণ হক বলেন, আনোয়ারার উপক‚লীয় অংশে বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ৩ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আনোয়ারার উপকূল সুরক্ষিত হয়ে যাবে।


বাঁশখালীতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হওয়ায় আতঙ্কে মানুষ

নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁশখালী

 

খানখানাবাদ ইউনিয়নের ডোংরা গ্রামের আবদুল করিম স্ত্রী, পুত্রসহ ৭ জন সদস্যকে হারিয়েছেন ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল ঘূর্ণিঝড়ে। তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সময় জোয়ারের পানিতে ভাসতে ভাসতে ৩ কিলোমিটার যাওয়ার পর জ্ঞান ফিরে আসে। পরে বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের ফিরে পাইনি। পরে গুনাগরীতে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিই। খানখানাবাদ ইউনিয়ন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তিনি জানান, পুরো এলাকায় ৮/১০ হাজার মানুষ মারা যায়। পরবর্তীসময়ে বাঁধ নির্মাণ করা হলেও কাজের মান নিম্নমানের হওয়ায় তা ভেঙে যায়। স্থায়ী বেড়িবাঁধ হয়নি।

 

ছনুয়া ইউনিয়নের চেমঠখালী গ্রামের আবদুর রহমান জানান, তাঁর পরিবারের ৮ জন এবং এই পাড়ার তিন শতাধিক শিশু ও নারী পুরুষের মৃত্যু ঘটে। পুরো ছনুয়া এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার নারী-পুরুষ এবং ৩০ হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়। তবে এখনো স্থায়ী বেড়িবাঁধ না হওয়ায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়। হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতিসাধিত হয়।

 

স্থানীয়দের দাবি, বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও রাজনৈতিক কারণে বাঁধ নির্মাণ বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে উপকূলীয় এলাকায় জনগণ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে আসছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, বাঁশখালী উপক‚লীয় এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধের তীর সংরক্ষণ কাজে জিওব্যাগ ও ব্লক পানিতে ফেলা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধের উপর ব্লকের কাজ চলমান রয়েছে।


সন্দ্বীপের দক্ষিণাংশে তীব্র ভাঙন, নেই টেকসই বাঁধ

নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দ্বীপ

 

সন্দ্বীপের উপকূলীয় সুরক্ষায় ব্লক বেড়িবাঁধ নির্মাণে বিভিন্ন সময়ে বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে বিপুল অর্থ বরাদ্দের পরও প্রকল্প বাস্তবায়নে অসম্পূর্ণ কাজ এবং নিম্নমানের নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। স্থানীয়রা জানান, ২৫ কিলোমিটার ব্লক বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও এখন পর্যন্ত আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বসানো কংক্রিট ব্লক সরে যাওয়া, ধসে পড়ায় বাঁধের ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় এখনও নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে কালাপানিয়া, আমানউল্লাহ, দীর্ঘাপাড় এবং উড়িরচর ইউনিয়নের উপক‚লীয় জনপদ। এর মধ্যে উড়িরচরের দক্ষিণাংশে পরিস্থিতি ভয়াবহ। নদীর তীব্র স্রোত ও জলোচ্ছ্বাসে প্রতিনিয়ত ভূমি বিলীন হচ্ছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ী তীররক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। উড়িরচরে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস, যাদের অধিকাংশই কৃষি ও মৎস্যনির্ভর। দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে জোয়ারের সময় নোনা পানি ঢুকে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে। বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের পর কিছু এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে মাটি ফেলে আংশিক মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয়।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট