তীব্র লোডশেডিংয়ের ধাক্কা লেগেছে ওয়াসার পানি উৎপাদনেও। তাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট চলছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা বলছে-বর্তমানে তাদের উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে দৈনিক চার কোটি লিটার কম হচ্ছে। ওয়াসার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা দৈনিক ৫০ কোটি লিটার। কিন্তু তার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৪৬ কোটি লিটার। মূলত বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় পানির এ সংকট তৈরি হয়েছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, সেবা সংস্থাটির দৈনিক পানি উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ৫০ কোটি লিটার। উৎপাদনের এই পানি মেলে কর্ণফুলী পানি সরবরাহের দুইটি প্রকল্প থেকে ২৮ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ১৮ কোটি লিটার এবং গভীর নলক‚প থেকে ৪ কোটি লিটার। কিন্তু সম্প্রতি লোডশেডিং ও হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় ওয়াসার সব প্ল্যান্টে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে দৈনিক পানি উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ কোটি লিটার কম হচ্ছে।
অপরদিকে ওয়াসায় বর্তমানে গভীর নলক‚প রয়েছে ৫৫টি। এরমধ্যে চালুকৃত ৫২টি নলক‚ল থেকে দৈনিক উৎপাদন হচ্ছে দুই কোটি লিটার। লোডশেডিংয়ের কারণে প্রতিটি নলক‚প পূর্ণ সক্ষমতায় চালু রাখাও যাচ্ছে না। বর্তমানে প্রতিটি গভীর নলক‚প চালু রাখা যাচ্ছে দৈনিক সর্বনিম্ন ১৫ ঘণ্টা থেকে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা। তাতে উৎপাদন দৈনিক ৪ কোটি লিটার থেকে কমে হচ্ছে ২ কোটি লিটার।
সূত্র আরো জানায়, কাপ্তাই জলবিদ্যুত কেন্দ্রে মোট ইউনিট রয়েছে ৫টি। কিন্তু কাপ্তাই লেকের পানি কমে যাওয়ায় বর্তমানে চালু আছে মাত্র একটি ইউনিট। এ কারণে হ্রাস পেয়েছে কর্ণফুলী নদীর পানির স্রোত। তাতে কমে গেছে নদীর পানির স্তর। অপরদিকে শাখা খালগুলো দিয়ে উজানের পানি কমে যাওয়ায় হালদার নদীর চিত্রও একই। এসব কারণে রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পাড়ে অবস্থিত ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহের প্রকল্প দুইটি এবং হালদা নদীর মোহরা পানি শোধনাগার ও হাটহাজারীর মদুনাঘাট পানি শোধনাগার সক্ষমতার পূর্ণমাত্রায় চালু রাখা যাচ্ছে না। তাতে কমে গেছে ওয়াসার পানি উৎপাদন।
চান্দগাঁও ওয়ার্ডের পূর্ব ফরিদেরপাড়া এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় আগের মতো ওয়াসার পানি মিলছে না। এতে পানি সংকটে ভোগান্তিতে রয়েছেন বাসিন্দারা। একই অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। নগরীর কোনো কোনো এলাকায় ওয়াসা রেশনিং করে পানি সরবরাহ দিলেও লোডশেডিং থাকায় বাসিন্দারা পাইপলাইন থেকে যথাসময়ে পানি নিতে পারে না।
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিং এবং হালদা ও কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে দৈনিক চার কোটি লিটার কমে গেছে। বর্তমানে ওয়াসার পানি উৎপাদনের সক্ষমতা দৈনিক ৫০ কোটি লিটার। তার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ৪৬ কোটি লিটার।’





















