চট্টগ্রাম সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতির সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতির সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৬ মার্চ, ২০২৬ | ১২:১৩ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো হাইপারসনিক সেজ্জিল-২ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী। ‘নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র’ নামে পরিচিতি পাওয়া সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন।

 

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) গতকাল রবিবার ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানোর দাবি করেছে। ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে এমনটা বলা হয়।

 

তাসনিম নিউজ বলছে, ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর তেহরান প্রথমবার এই কৌশলগত সলিড-ফুয়েল সেজিল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল।

 

দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ম্যাগাজিনের তথ্যমতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের বিস্তৃত অঞ্চলে আঘাত হানতে সক্ষম।

 

সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র কী

‘নৃত্যরত ক্ষেপণস্ত্র’ ছাড়াও সেজ্জিলের আরও দু’টি নাম আছে— সাজ্জিল এবং আশুরা। এটি ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করা একটি শক্তিশালী মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র , যা সর্বোচ্চ ২০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। দুই স্তরের এই ক্ষেপণাস্ত্র সর্বোচ্চ ৭০০ কেজি বিস্ফোরক বহন করতে পারে। সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণনের সময় তরল জ্বলানির পরিবর্তে ‘সলিড জ্বালানি’ ব্যবহার করা হয় এবং এটির হাই-অল্টিচ্যুড ম্যানুয়েভারিং সক্ষমতার জন্য একে নৃত্যরত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্যান্সিং মিসাইল বলা হয়ে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের থিংকট্যাঙ্ক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনারল স্টাডিজের তথ্য অনুসারে, সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্রের দৈর্ঘ ১৮ মিটার (প্রায় ৫৫ ফুট), ব্যাস ১ দশমিক ২৫ মিটার (প্রায় সাড়ে ৪ ফুট) এবং ওজন ১২ হাজার ৬০০ কেজি।

 

গত নব্বইয়ের দশকের সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে ইরান, ২০০৮ সালে তা শেষ হয় । ওই বছরই প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয় ক্ষেপণাস্ত্রটি।

 

সেজ্জিলের দু’টি সংস্করণ আছে— সেজ্জিল-১ এবং সেজ্জিল-২। প্রথমটি স্বল্পপাল্লার, দ্বিতীয়টি মাঝারিপাল্লার। 

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট