চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাস ফেরত মো. আলমগীর (৪০) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পারিবারিক কলহের জেরে ২৮ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দিবাগত রাত ১:৩০ মিনিটে উত্তর পদুয়া কামারটিলা এলাকায় নিজ বসতঘরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) এবং বড় ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমগীরের সঙ্গে তার স্ত্রী রহিমা বেগমের দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। আলমগীর দ্বিতীয় বিয়ে করলে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে রহিমা তাকে ডিভোর্স দিয়ে সন্তানদের নিয়ে শহরে চলে যান। নয় মাস আগে আলমগীর বিদেশ থেকে ফিরে পুনরায় স্ত্রী-সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে আসেন, কিন্তু তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। ঘটনার রাতে তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর তার স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা নিয়ে ভয় দেখান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও ছেলে মিলে ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।
হত্যাকাণ্ডটি ধামাচাপা দিতে আসামিরা একটি কাল্পনিক গল্প সাজায়। তারা প্রতিবেশীদের জানায় যে, আলমগীর রাতে প্রস্রাব করতে বাইরে গেলে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিন দুপুরে তিনি মারা যান।
পরবর্তীতে নিহতের পিতার দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ধামা দা-টি উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















