যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে ইরানের তেল রফতানি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যার ফলে দেশটিতে তেলের মজুত নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। রফতানি পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের মজুত এখন ধারণক্ষমতার প্রান্তসীমায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, ইরান এখন তাদের পরিত্যক্ত শিল্প গুদাম ও পুরোনো নাজুক ট্যাংকে তেল সংরক্ষণের মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
রফতানিতে বড় ধস ও উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন নৌ-অবরোধ আরোপের পর ইরানের তেল রফতানিতে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে ইরান দৈনিক ২১ লাখ ব্যারেল তেল লোড করলেও, অবরোধের পর তা কমে মাত্র ৫ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। রফতানি করতে না পেরে জাতীয় তেল কোম্পানি উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থা চলতে থাকলে মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের তেল উৎপাদন বর্তমানের তুলনায় অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।
মরিয়া বিকল্প ও কারিগরি ঝুঁকি তেল সংরক্ষণের জন্য ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় তেল কেন্দ্র আহভাজ ও আসালুইয়ের পরিত্যক্ত কন্টেইনার এবং সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কার ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া, বিকল্প হিসেবে রেলপথে চীনে তেল পাঠানোর চেষ্টা করছে তেহরান, যদিও বিশেষজ্ঞরা একে অসাশ্রয়ী ও স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখছেন।
এদিকে, উৎপাদন বন্ধ রাখা বা কমিয়ে দেওয়া ইরানের পুরোনো তেল ক্ষেত্রগুলোর জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির প্রায় অর্ধেক তেলক্ষেত্র ভূতাত্ত্বিকভাবে নাজুক হওয়ায় দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকলে এগুলোর স্থায়ী ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও বিশ্ববাজারের প্রভাব ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধ এবং অবরোধ তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয়নি। হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থানে অনড় রয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের তেল অবকাঠামো বিকল করতে বড়জোর তিন দিন সময় লাগবে।
এই অদৃশ্য লড়াইয়ের প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারেও। হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সোমবার ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৮.২৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের তেলের মজুত রাখার জায়গা বা ‘ট্যাঙ্ক’ পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে যেতে পারে, যা দেশটিকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















