চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যানের দৌড়ে খ্যাত-অখ্যাত সবাই

ইউপি নির্বাচন : চেয়ারম্যানের দৌড়ে খ্যাত-অখ্যাত সবাই

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

বোয়ালখালীর রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও জনসমাগম এলাকায় শোভা পাচ্ছে বড় বড় বিলবোর্ড। জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাঁটানো হয়েছে এসব বিলবোর্ড। বোয়ালখালী ছাড়া পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারাসহ বিভিন্ন উপজেলায় সাঁটানো হয়েছে এই ধরনের পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড। চেয়ারম্যান পদে দোয়া-সমর্থন চেয়ে লাগানো হয়েছে এসব প্রচারবোর্ড।

 

গত মঙ্গলবার বোয়ালখালী ঘুরে দেখা যায়, একেক ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী দোয়া-সমর্থন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিলবোর্ড-ব্যানার ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বেশিরভাগ পোস্টার-ব্যানার ও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি দিয়ে এসব পোস্টার-ব্যানার লাগানো হয়েছে। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও দলীয় প্রধানের চেয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছবি বড় করে সাঁটানো হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের ছবি বড় করে ছাপানোকে হীনমন্যতার বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি করেছেন তৃণমূল নেতাদের অনেকেই। এর মাধ্যমে দলীয় প্রধানদের অনেকটা খাটো করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

 

বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলায় সাঁটানো বিলবোর্ড, পোস্টার-ব্যানার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দলের দুর্দিনের ত্যাগী-পরীক্ষিত নেতা যেমন রয়েছেন, তেমনি সুদিনের অনেক নেতাও প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন।

 

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৫ আগস্টে আ. লীগ সরকারের পতনের পর বিএনপিতে অনেকেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও মিটিং-মিছিলে এখন সামনের সারির চেয়ার দখল করে রাখে। সুবিধাভোগী এসব নেতাদের কারণে দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 

দেখা যায়, দলের দীর্ঘদিনের পরিচিত নেতাদের সঙ্গে অখ্যাত-অপরিচিত লোকজনও এখন বড় বড় পোস্টার লাগিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।

 

বোয়ালখালী, পটিয়ার ৫-৬ জন সম্ভাব্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপির তিন জন শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ১৭ বছর ধরে মাঠে না থাকা অনেকেই এখন বড় নেতা হওয়ার চেষ্টায় বিভোর হয়ে পড়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর হঠাৎ করে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সুবিধাভোগী এসব লোকজন এখন টাকা-পয়সা বিলিয়ে দলের নেতাকর্মীদের সমর্থন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অনেকেই ভূইফোঁড় সংগঠন সৃষ্টি করে নিজেরাই নেতা বনে যাচ্ছেন। তবে ভূইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় বিএনপি ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি বিবৃতি দিয়ে সতর্ক করেছে। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছে না ভূইফোঁড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য।

 

বছরের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন করার ইঙ্গিত দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইসি। ইতিমধ্যেই ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিধি-বিধান প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে। সরকারি দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থিতার ওপর জোর দিচ্ছে বিএনপি। বেশিরভাগ ইউনিয়নে তিন-পাঁচজন বা আরও বেশি প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দলীয়ভাবে ঐক্য ও একক প্রার্থিতার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছিলেন, ‘দলীয় সিদ্ধান্ত মতে, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবো। উপজেলা বিএনপি কমিটি, জেলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যসহ সকলের মতামতের ভিত্তিতে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।’ কমিটি না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দল একটি সাংগঠনিক টিম করে দেবে। সকলের মতামতের ভিত্তিতে সাংগঠনিকভাবে একক প্রার্থিতার সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’

 

গ্রাম-গঞ্জে নির্বাচনী আবহ : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে গ্রাম-গঞ্জে সরব হয়ে উঠেছেন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নির্বাচনী আবহ সৃষ্টি হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ময়দানে এখন শুধু নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। আড্ডা-আলোচনায় ঠাঁই পেয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট