দীর্ঘ তিন মাস ১৫ দিন পর রাঙামাটির কাপ্তাই লেকে পুনরায় শুরু হয়েছে মাছ ধরা। সোমবার (১০ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে মাছ ধরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকেই ব্যস্ততা ফিরে এসেছে কাপ্তাইয়ের জেটিঘাট সংলগ্ন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন পর কর্মচাঞ্চল্য ফিরে পাওয়ায় হাসি ফুটেছে জেলে, মৎস্য ব্যবসায়ী ও ঘাট শ্রমিকদের মুখে।
কাপ্তাই মৎস্য উন্নয়ন উপকেন্দ্রের প্রধান জসিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে কাপ্তাই কেন্দ্রে মাছ অবতরণ শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত এখানে ২৮ হাজার ৮৬৬ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ অবতরণ করা হয়েছে। এসব মাছ থেকে সরকার ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইঞ্জিনচালিত বোটে করে জেলেরা নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে অবতরণ কেন্দ্রে আসতে শুরু করেন। প্রথম দিনে বোটে করে চাপিলা, কাচকি, টেংরা, আইড়, বাইম, বাচা, কালিবাউশ (কালিগুনিয়া) ও পাবদা মাছের উপস্থিতি ছিল বেশি। মৎস্য ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধের পর মাছগুলো বরফজাত করে ট্রাকযোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।
কাপ্তাই মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নবী হোসেন ও অর্থ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দীন জানান, মাইনি, শুভলং, গাছকাটা ছড়া ও রাইংখং খালসহ লেকের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। তবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের সংলগ্ন লেকে প্রচুর কচুরিপানা জমে থাকায় ঘাটে বোট ভেড়াতে জেলেদের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী জিয়াউল হক, সাজ্জাদ, মো. মাইনুদ্দীন এবং ঘাট শ্রমিক আজগর আলী জানান, প্রথম দিনে ছোট ও মাঝারি আকারের মাছ বেশি ধরা পড়লেও লেকের পানি কমে এলে সামনে বড় আকারের মাছও প্রচুর পরিমাণে ধরা পড়বে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকে কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির লক্ষ্যে চলতি বছর ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। পরবর্তীতে লেকের পানির উচ্চতা আশানুরূপ না বাড়ায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়ে ১০ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পূর্বকোণ/পিআর















