কক্সবাজারের টেকনাফের ২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলাম গ্রুপ’-এর হামলায় এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এই হামলায় টার্গেট রোহিঙ্গা নেতা হেড মাঝি রফিক (৩০) প্রাণে বেঁচে গেলেও আতঙ্ক-হুড়োহুড়িতে আহত হন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় ক্যাম্পের বি-৬ ও ডি-২ ব্লকের মধ্যবর্তী স্থানে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ক্যাম্প সূত্র জানায়, ক্যাম্প প্রশাসনের নির্দেশনায় সেখানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা মেরামতের কাজ তদারকি করতে বি ও ডি ব্লকে যান হেড মাঝি রফিক। ওই সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন ‘ইসলাম গ্রুপ’-এর একদল ক্যাডার তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে। রফিক তাৎক্ষণিকভাবে আত্মরক্ষার্থে মাথা নিচু করলে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে তার ঠিক পেছনে থাকা মো. হোছন (২৮) নামের এক রোহিঙ্গা যুবক গুলিবিদ্ধ হন। আহত হোছন ব্লক এ-৪ এর বাসিন্দা এবং আনু মিয়ার ছেলে।
হেড মাঝি রফিক জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তাকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে সরাসরি মাথায় গুলি করার চেষ্টা করেছিল। ভাগ্যক্রমে তিনি দ্রুত মাথা নিচু করায় বেঁচে যান এবং প্রাণভয়ে দ্রুত নিকটস্থ এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) ক্যাম্পে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ৮ এপিবিএন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ যুবক স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২২ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআইসি) রণি আলম নূর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আক্রান্ত হেড মাঝি বর্তমানে এপিবিএন পুলিশের আশ্রয়ে নিরাপদ রয়েছেন। ক্যাম্পে বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি জানান।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















