চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ফটিকছড়িতে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১০ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ফটিকছড়িতে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ১০ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা

২৩ জুলাই, ২০২৬ | ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির, সাবেক আমির, সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ফটিকছড়ি থানায় মামলাটি করেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইমাম হোসেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৩২৪, ৩০৭, ৩৭৯, ৩৬৫, ৩৪২, ৫০৬(২), ১১৪ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফটিকছড়ি আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া এবং জামায়াতের প্রার্থীর করা একটি মামলার সমালোচনা করায় গত ২০ জুলাই উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বাদীর ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাকে জোর করে উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। রাত ৩টার দিকে ছেড়ে দেওয়ার সময় ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

মামলার আসামিরা হলেন—ফটিকছড়ি পৌরসভা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম খলিল, সেক্রেটারি গিয়াস উদ্দিন রুবেল, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের নেতা রেজাউল করিম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু, সাবেক আমির নাজিম উদ্দিন সিকদার, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ইউছুপ বিন সিরাজ, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আবু জাফর, পৌর জামায়াতের নেতা কাজী মোহাম্মদ লোকমান, মোহাম্মদ রায়হান ও মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির নাজিম উদ্দীন ইমু বলেন, একটি সমাধানকৃত বিষয়কে সামনে এনে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট একটি মামলা করা হয়েছে। কাউকে অপহরণ, আটকে রাখা বা মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবি করেন।

 

এদিকে মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ দাবি করেন, সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং বিশেষ রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগে বর্ণিত অপহরণ বা হত্যাচেষ্টার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ফেসবুকে দেওয়া পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির,সাবেক আমির, সেক্রেটারিসহ ১০ নেতার বিরুদ্ধে অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। দোষীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট