কর্ণফুলী উপজেলায় সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। এ সময় গরু চুরি, মাদক সংক্রান্ত অপরাধ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
বুধবার (২২ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিদুয়ানুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক সভায় এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সভায় কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুন মাসের অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জানান যে, উপজেলায় খুন, নারী নির্যাতন, চুরি ও মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, খামারিদের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে গরু চুরি। এটি মোকাবিলায় গবাদিপশুকে পরিচয় শনাক্তকারী ট্যাগের আওতায় আনা হচ্ছে এবং প্রায় ১,৫০০ গরুকে বীমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চুরি ঠেকাতে নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য গত ২০ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হয়েছে, যা সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়ে রোগীরা ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অগ্নিকাণ্ড বা যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে তারা সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হয়। বড়উঠান ইউনিয়নে মামলার হার বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বিরোধ সালিশে নিষ্পত্তি হওয়ায় মূল লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানানো হয়। সভায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানানো হয়।
সবশেষে, সভার সভাপতি মো. রিদুয়ানুল ইসলাম জনস্বার্থে গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেন। সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















