টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং দেখা দিয়েছে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা।
পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে ডলু নদী, টংকাবতী ও হাঙ্গর খালে তীব্র স্রোত দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে খাল-বিল, ছড়া ও নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা, বসতবাড়ি, গ্রামীণ সড়ক ও কৃষিজমিতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয়দের জানান, ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে নিম্নাঞ্চলের চর ও বিল এলাকা প্লাবিত হয়ে কৃষকের সবজি ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের অর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এছাড়া নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম দু:খ,দুর্দশায়।
পরিস্থিতি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদী তীরবর্তী বসতঘর বিলীন হওয়া এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিও ক্রমেই বাড়ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (৮ জুন) সকাল থেকে উপজেলার আধুনগর, চুনতি, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা, কলাউজান, চরম্বা, আমিরাবাদ ও আশপাশের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।
কোথাও কোথাও বাড়ির আঙিনা ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লেয়াকত আলী জানান,ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে আর তেমন ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।
আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন জানান, টানা বৃষ্টিতে তার ইউনিয়নে সদরনী পাড়ার ডলু নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকেছে। ইতোমধ্যে বড়ুয়া পাড়াসহ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাতিয়ার খাল ভেঙে সিকদার পাড়া প্লাবিত হয়েছে এবং উত্তর হরিণা ওয়া পাড়ার আবদুর বারীর মাটির ঘর ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে।
আমিরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, টানা বৃষ্টিতে আমিরাবাদ নতুন বাজার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সেখানকার মানুষ এখন পানিবন্দি। এছাড়া টংকাবতীর খালের পানি ঢুকে আরও কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পুটিবিলা, চুনতি ও বড়হাতিয়ার কয়েকটি এলাকাতেও পানি ওঠার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বন্যা কবলিত কয়েকটি স্থান পরিদর্শন করেছেন।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাখাল চন্দ্র রুদ্র জানান, ভারী বর্ষণে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, টানা বৃষ্টিপাত, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ















