চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-মিরসরাইয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত

বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-মিরসরাইয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

চকরিয়া ও মিরসরাই সংবাদদাতা

৮ জুলাই, ২০২৬ | ১০:২৮ অপরাহ্ণ

গত চার দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের মিরসরাই এবং কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে উপজেলাগুলোতে অন্তত লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

 

চকরিয়া বন্যা পরিস্থিতি

চকরিয়ার বরইতলী, কাকারা, লক্ষ্যারচর, ফাঁসিয়াখালী এবং মাতামুহুরীর পূর্ব বড়ভেওলা, ঢেমুশিয়া, কোনাখালীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। কাকারার ১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দি এবং শতাধিক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। অনেক মানুষ গবাদিপশু ও জরুরি মালামাল নিয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

 

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফসলি জমি এবং চিংড়ির ঘের পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। রিকশাচালকসহ নিম্নআয়ের মানুষ উপার্জনের অভাবে বিপাকে পড়েছেন। এছাড়া আমনের বীজতলা ও সবজিক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

 

পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। উজানের পানি দ্রুত নামিয়ে দেওয়ার জন্য উপকূলীয় স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ধসের ঝুঁকি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে।

 

মিরসরাইয়ে বন্যা পরিস্থিতি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বহু পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। খৈয়াছড়া, ওয়াহেদপুর, কাটাছড়া ও ইছাখালী ইউনিয়নসহ দুটি পৌরসভার অসংখ্য বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় এবং জোরারগঞ্জ-মুহুরী প্রজেক্ট ও টেকেরহাট সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটছে।

 

কৃষি অফিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ হেক্টর আউশ ধান, ৫ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ১৫ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষকরা আমনের বীজতলা হারিয়ে পুনরায় তা তৈরির দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

 

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী দুই দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট