চট্টগ্রাম বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সাজেকে আটকা পর্যটকরা

ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, সাজেকে আটকা পর্যটকরা

অনলাইন ডেস্ক

৮ জুলাই, ২০২৬ | ৬:৪০ অপরাহ্ণ

টানা ও অতি ভারি বর্ষণে খাগড়াছড়ি জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবিত হয়েছে নিম্নাঞ্চল, এবং সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে বেশ কিছু পরিবার।

 

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে রাঙামাটির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সেখানে আটকা পড়েছেন পর্যটকরা।

 

বাঘাইছড়ি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা আকতার বলেন, “পাহাড়ি ঢল ও ভারি বর্ষণের কারণে দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট বাজার ও মাচালং বাজারে সড়ক ডুবে গেছে। এতে সাজেকে যাওয়া পর্যটকরা আটকা পড়েছেন। সড়কের পানি নেমে গেলে তাদের নিয়ে আসা হবে। সাজেক কটেজ রিসোর্ট মালিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক বলেন, “সড়কের বেশ কয়েকটা অংশ ডুবে গেছে। এতে সাজেকের রুইলুই ও কংলাক পর্যটন কেন্দ্রে আটকা পড়েছেন ৫ শতাধিক পর্যটক। যারা সাজেকে আটকা পড়েছে তাদের রুম ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হয়েছে।”

 

এছাড়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা-লংগদু সড়কের মেরুং ইউনিয়নের হেডকোয়ার্টার ব্রিজ এবং সড়কের বিভিন্ন অংশ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বড় মেরুং, বামে আটারকছড়া ও তেঁতুল এলাকাতেও সড়ক ডুবে রয়েছে।

 

ফলে মঙ্গলবার বিকাল থেকে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শুধু দূরপাল্লার যানই নয়, স্থানীয় বাসিন্দারাও যাতায়াত করতে পারছেন না। অনেককেই কোমর পর্যন্ত পানিতে ভিজে পথ পাড়ি দিতে দেখা গেছে।

 

এছাড়াও জেলার অন্যান্য প্রধান নদী যেমন মাইনী ও চেঙ্গীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছড়া ও খালের পানি উপচে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

অনেক সড়ক ও বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মানুষ ও গবাদি পশুকে বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

 

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা উপজেলায় দুর্যোগ টিম গঠন করেছি। উপজেলায় ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

 

“এর মধ্যে মেরুং রাজার সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের খাবার ও সুপেয় পানি দেওয়া হচ্ছে।”

 

তিনি আরও বলেন, “জনপ্রতিনিধিদেরও নিজ নিজ এলাকার আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া মেডিকেল টিম, ফায়ার সার্ভিস এবং রেড ক্রিসেন্ট সদস্যদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য।”

 

টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ি ও মহালছড়ি সড়কের সিন্দুকছড়ি এবং গুইমারা সড়কে পাহাড় ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

 

এদিকে জেলা প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বারবার অনুরোধ করছে।

 

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “জেলায় ১৩৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, ও কলেজ রয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।”

 

পূর্বকোণ/রেহেনুমা /পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট