চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

রাঙ্গুনিয়ায় মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙ্গুনিয়ায় মাটিচাপা পড়ে নারীর মৃত্যু, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

রাঙ্গুনিয়া সংবাদদাতা

৭ জুলাই, ২০২৬ | ৯:৪১ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় টানা অতি ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ পাহাড়ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং অপর এক নারী আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুচ্ছগ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

 

নিহত নারীর নাম রেনু আক্তার (৫৬), তিনি মৃত নুরনবীর স্ত্রী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে একই এলাকায় পাহাড়ধসে আহত সরফবানু নামে এক নারীকে দেখতে গিয়েছিলেন রেনু আক্তার। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেলে আরেক দফা পাহাড়ধসের কবলে পড়ে তিনি নিজেই প্রাণ হারান।

 

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, খবর পাওয়ার সাত মিনিটের মধ্যে ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর অর্জুন বাড়ৈর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নিরলসভাবে অভিযান শুরু করে। বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে মাটির স্তূপ সরিয়ে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে রেনু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার এসআই জাকেরের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক ডা. তাহমিনা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাপনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

দুদিনের টানা ভারী বর্ষণে কেবল পাহাড়ধস নয়, বরং কর্ণফুলী ও ইছামতি নদীর তীরবর্তী ইসলামপুর, পারুয়া, সরফভাটা ও বনগ্রামসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বসতঘর ও বাসিন্দারা চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া সকালে জিয়া নগরে কাপ্তাই সড়কে গাছ পড়ে যানচলাচল ব্যাহত হলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তা দ্রুত অপসারণ করে।

 

পাহাড়ধসের এই ঘটনায় এলাকায় গভীর শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গুচ্ছগ্রামটি দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকলেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপত্তা বা পুনর্বাসনের জন্য কোনো কার্যকর স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত বসতি ও পাহাড় কাটার কারণে প্রতি বছরই এই অঞ্চলে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে।

 

ঘটনার আগে থেকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছিল।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেবব্রত দাশ এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ইউএনও মো. নাজমুল হাসান এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট