টানা কয়েকদিনের বিরতিহীন ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে রাঙ্গামাটির রাজস্থলী এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসার পাশাপাশি পাহাড় ধস ও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রাজস্থলী উপজেলার পরিস্থিতি
রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া বাজার এবং ডাকবাংলা পাড়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় অন্তত ১৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে বেশ কিছু সড়ক কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদোমং মারমা জানিয়েছেন, উজানের পানি দ্রুত নামিয়ে দেওয়ার জন্য স্লুইস গেটের কপাটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি তদারকি করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলার পরিস্থিতি
ফটিকছড়িতে অতিবৃষ্টির ফলে হালদা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করে বন্যার সৃষ্টি করতে পারে । বৃষ্টির কারণে মাটি নরম হয়ে গাছপালা বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিচু এলাকার বাসিন্দাদের অন্তত এক সপ্তাহের শুকনো খাবার ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন এবং প্রয়োজনে স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
উভয় উপজেলাতেই পাহাড় ধসের প্রবল ঝুঁকি থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম এবং রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসন জানমালের সুরক্ষায় সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















