চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

আটকে থাকা ৯০ জন পর্যটক ফিরেছেন থানচি সদরে

আটকে থাকা ৯০ জন পর্যটক ফিরেছেন থানচি সদরে

থানচি সংবাদদাতা

৭ জুলাই, ২০২৬ | ৬:১৩ অপরাহ্ণ

টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের থানচি উপজেলা বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে আটকা পড়া ৯০ পর্যটক অক্ষত অবস্থায় উপজেলা সদরে পৌঁছেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টুরিস্ট গাইড কল্যাণ সমিতির সভাপতি জওয়াইপ্রু মারমা।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে স্থানীয় রিসোর্ট মালিকদের সহযোগিতায় আটকে পড়া পর্যটকদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রেমাক্রি বাজারের বিভিন্ন রিসোর্টে গাইডসহ ৭৪ জন পর্যটক অবস্থান করছেন। নদীর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায়  তাদের নিরাপদে থানচি সদরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

এছাড়া আমিয়াখুম এলাকায় আটকে থাকা ১৮ জন পর্যটককে গাইডদের সহায়তায় হেঁটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাইগং ঝর্ণায় আটকে থাকা আরও ১০ জন পর্যটক ইতোমধ্যে থানচি উপজেলা সদরে পৌঁছেছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে থানচি সদর থেকে তিন্দু ও রেমাক্রি ইউনিয়নের সঙ্গে সব ধরনের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

বান্দরবান জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোত, পাহাড়ধসের ঝুঁকি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে সবাইকে থানচির পর্যটন এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। জেলার পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

বান্দরবান জেলা আবহাওয়া অফিস তথ্যে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

 

কয়েকদিনের অব্যাহত বর্ষণে বান্দরবান-থানচি সড়কের কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটলেও সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস দ্রুত মাটি ও পাথর অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। থানচি-নীলগিরি এলাকায় সেনাবাহিনীর ১৭ ইসিবি সড়ক সচল রাখতে কাজ করছে। তবে থানচির সঙ্গে তিন্দু ও রেমাক্রি ইউনিয়নের নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত পর্যটকদের নিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট