কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগর সংলগ্ন বাহারছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ধসে গাছ ও মাটিচাপা পড়ে নাসিমা আক্তার লিমা (৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এসময় তার স্বামী জসিম উদ্দিনও (৩৫) গুরুতর আহত হন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে বাহারছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে ঘরের কাজ ও দুপুরের খাবার শেষে ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন নাসিমা আক্তার ও তার স্বামী জসিম উদ্দিন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাহাড়ের একটি বড় অংশ ওপরের একটি ভারী গাছসহ উপড়ে তাদের ঘরের ওপর আছড়ে পড়ে। মাটি ও গাছের ভারে মুহূর্তের মধ্যে ঘরটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং তারা ভেতরেই চাপা পড়েন।
টানা বৃষ্টির মধ্যে বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা অতি দ্রুত তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ততক্ষণে নাসিমা আক্তার লিমার মৃত্যু হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী জসিম উদ্দিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দরিয়ানগর বাহারছড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মাহাবুব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নাসিমার লাশ বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর আহত স্বামী জসিম উদ্দিন একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, পাহাড়ধসে এক নারীর নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা গেছে। আরও কয়েকজন হতাহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ সংগ্রহ করছে। টানা বৃষ্টির ফলে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
পাহাড়ের পাদদেশে থামছে না মৃত্যুঝুঁকি
কক্সবাজারে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এর আগে গত ৬ জুলাই উখিয়া, কক্সবাজার সদর ও পেকুয়ায় পাহাড়ধসের ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহলের মতে, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ আবাসন গড়ে তোলার কারণেই প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। প্রশাসন থেকে বর্ষা এলে নিয়মিত মাইকিং ও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও স্থায়ী পুনর্বাসন ও কঠোর আইনি নজরদারির অভাবে সাধারণ মানুষ জীবনঝুঁকি নিয়েই এসব মৃত্যুর ফাঁদে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পূর্বকোণ/পিআর














