বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টির ফলে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও কক্সবাজার পৌরসভায় ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৮ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং ১ জন স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিক।
উখিয়ার ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৩ জন—কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী ও ৪ বছরের সন্তান মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। ১১ নম্বর বালুখালী ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে চার ভাই-বোন। এছাড়া ৭ নম্বর ক্যাম্পে এক শিশু এবং কক্সবাজার শহরের ছাত্তারের ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের মাটি ধসে আলী আকবর (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
প্রশাসনের তথ্যমতে, পাহাড় কাটা ও অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের কারণে জেলার ২৪টি এলাকা চরম ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা এবং ৪০ থেকে ৫০ হাজার স্থানীয় বাসিন্দা চরম জীবনঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। দারিদ্র্যতার কারণে ও বিকল্প আশ্রয়ের অভাবে এই মানুষগুলো মৃত্যুঝুঁকি জেনেও পাহাড়ের পাদদেশে পড়ে আছেন।
টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের প্রধান পর্যটন এলাকা সুগন্ধা পয়েন্ট, কলাতলী ও লাবণী বিচের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো এক হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ায় শত শত হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে, যার ফলে হাজার হাজার পর্যটক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের দাবি, এই স্থবিরতায় তাদের কোটি কোটি টাকার আর্থিক লোকসান হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পন্না আক্তার জানিয়েছেন, ঝুঁকিতে থাকা লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং বিশেষ টিম কাজ করছে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ












