চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থককে গুলি ও কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১
এনায়েত আলী ফকির (৪০)।

সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থককে গুলি ও কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ১

৩০ জুন, ২০২৬ | ৫:২৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় পূর্ব বিরোধের জেরে এনায়েত আলী ফকির (৪০) নামে এক আওয়ামী লীগ সমর্থককে গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রায়হান রনি (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের উত্তরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

আহত এনায়েত আলী ফকির একই এলাকার মৃত উকিল উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, চট্টগ্রামে চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।

 

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের একটি বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা এনায়েত আলীকে লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে তিনি ডান হাত ও ডান পায়ের উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লোহার রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে তাকে রাস্তার পাশের একটি ডোবায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। স্থানীয়রা ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।

 

জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মারামারির মামলায় এনায়েত আলী ফকিরের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এনায়েত আলী ফকির দাবি করেন, বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে জিহান, কামরুল ও ছাবেরের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তাকে ঘিরে ফেলে। তারা প্রথমে গুলি করে, পরে ধারালো অস্ত্র, লোহার রড ও ফকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক মারধর করে তাকে ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।

 

তিনি আরও বলেন, তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে আওয়ামী লীগের সমর্থক। তার দাবি, পূর্ব বিরোধের জের ধরে তাকে হামলার শিকার হতে হয়েছে এবং অতীতেও তাকে একটি মামলায় মিথ্যা আসামি করা হয়েছিল।

 

আহতের স্ত্রী জিন্নাত আরা বেগম বলেন, ‘রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ের আকদ অনুষ্ঠান শেষে তার স্বামী বাড়ি ফিরছিলেন। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ ও হামলার খবর পেয়ে গিয়ে দেখেন, তাকে গুলিবিদ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় ডোবায় ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আবার চমেকে ফিরিয়ে আনা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে বর্তমানে তাকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে।’

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় তার স্বামীকে অন্যায়ভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালের ঈদেও তাদের মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলেকে মারধরের শিকার হতে হয়েছিল। গত শুক্রবার রাতেও তার স্বামীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

 

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট