কক্সবাজারের মহেশখালীতে অভিযান চালিয়ে দুটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও দুই রাউন্ড কার্তুজসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (২৮ জুন) গভীর রাতে ধলঘাটা ইউনিয়নের সিকদার পাড়া সংলগ্ন ‘বিএনপি ঘোনা’ নামক একটি বিতর্কিত চিংড়ি প্রকল্প এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন— কালারমার ছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হালিম মোহাম্মদ মিজবা (২৫) এবং শাহাদাৎ হোসেন রিফাত (২৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধলঘাটার ওই চিংড়ি প্রজেক্টটি দখল-বেদখল নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মজিদ কোম্পানি এবং বিএনপির নামধারী সরওয়ার আলম শাহীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। গ্রেপ্তার দুই যুবক মজিদ কোম্পানির পক্ষের লোক বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অন্যদিকে, অভিযোগ উঠেছে যে সরওয়ার বাহিনী পার্শ্ববর্তী কালারমারছড়া ও উজানটিয়া থেকে ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসী এনে এলাকা দখলের মহড়া দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরওয়ার বাহিনীর হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
কোহেলিয়া নদী ও সংলগ্ন জলপথে সরওয়ার বাহিনীর ডাকাতি ও অস্ত্রের মহড়ার কারণে সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে লবণচাষী ও ব্যবসায়ীরা তাদের উৎপাদিত লবণ নৌপথে পরিবহনে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ডাকাতের ভয়ে অনেকেই লবণবাহী নৌকা নদীতে নামাতে সাহস পাচ্ছেন না, যার ফলে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে এবং শত শত লবণচাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সরওয়ার বাহিনীর প্রধান আড়াল থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন।
মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সোলতান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী থানা পুলিশ ও কালারমার ছড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা এই যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে ১টি দেশীয় এলজি, ১টি দেশীয় একনলা বন্দুক এবং ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















