চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

ভেড়ার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি লাভ

সীতাকুণ্ডে দুম্বা পালনে সফলতা আগ্রহ বাড়ছে খামারিদের

সৌমিত্র চক্রবর্তী , সীতাকুণ্ড  

১৩ জুন, ২০২৬ | ১২:১২ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ডে দুটি খামারে পরীক্ষামূলক দুম্বা পালনে অভাবনীয় সফলতা এসেছে। উপজেলার বাড়বকুণ্ড ও ফৌজদারহাট এলাকার খামার দুটিতে দুম্বা পালন করে ভেড়ার চেয়ে দুম্বায় পাঁচগুণ বেশি লাভ পাওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। এতে ঐ খামারিরা আরো বেশি দুম্বা পালনে আগ্রহী হয়েছেন আবার নতুন করে দুম্বা পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আরো অনেক খামারি। ফলে এ উপজেলায় দুম্বা পালন দ্রুত ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

 

জানা গেছে, গত কয়েক বছরে সীতাকুণ্ডের দুটি খামারে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এ খামার দুটি হলো উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাটস্থ ইউনিক গোট ফার্ম এবং বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের মিয়াজী পাড়ায় অবস্থিত রুপালী এগ্রো লিমিটেড। এর মধ্যে ইউনিক গোট ফার্মে দুম্বা পালন শুরু হয় ২০২১ সালে। অন্যদিকে রুপালী এগ্রো ফার্মে দুম্বা পালন শুরু হয় ২০২৪ সালে।  দুম্বা পালন বিষয়ে কথা হয় ইউনিক গোট ফার্মের মালিক ব্যাংকার আদনান চৌধুরীর সাথে। তিনি জানান, ২০২১ সালে গাজীপুরের একটি রিসোর্টে গিয়ে দুম্বা দেখে ভালো লাগে তার। মরুর দেশে থেকে ৯টি দুম্বা কিনে আনলেও শুরুতে খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত নানা সমস্যায় দুম্বা পালনে বেগ পেতে হয়েছে। তবে সময়ের সাথে দুম্বাগুলো দেশীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে আর সমস্যায় পড়তে হয়নি। এক পর্যায়ে তার খামারে দুম্বা বেড়ে ৯৩টি হয়। টার্কি দুম্বা,

 

 

আওয়াজী দুম্বা ও পার্সিয়ান নামে তিন প্রজাতির দুম্বার মধ্যে বর্তমানে ৪৩টি দুম্বা প্রজননের জন্য রাখা আছে। এছাড়া চলতি বছরের কোরবানির সময়ে ৫০টি দুম্বা বিক্রি করা হয়েছে। প্রতিটি ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের দুম্বা বিক্রি হয়েছে ৯০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায়। আর দুই মণের বেশি ওজনের দুম্বা বিক্রি হয়েছে দেড় লক্ষাধিক টাকায়।

 

 

আদনান চৌধুরী আরো জানান, সাধারণ ক্রেতারা দুম্বাকে ভেড়া মনে করে ভেড়ার সমতুল্য দাম দিতে চান। কিন্তু দুম্বা আলাদা প্রাণী। ভেড়া ও ছাগলের থেকে দুম্বার দ্রুতগতিতে ওজন বাড়ে। তিন মাস বয়সী দুম্বা ৩০ থেকে ৪০ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়। এর প্রাণীর মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। প্রতিটি দুম্বায় মাসে ওষুধ ও খাবারসহ সব মিলিয়ে মোট দুই হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে। কিন্তু একই খরচ করে ভেড়া পালন করলেও দেখা যায় দুম্বাতে লাভ পাঁচগুণ বেশি।

 

অন্যদিকে বাড়বকুণ্ডের রুপালী এগ্রো খামারের ম্যানেজার মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, তারা মূলত গরুর খামারি। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে দুটি পুরুষ দুম্বা ও চারটি নারী প্রজাতির দুম্বা কিনে আনেন তারা। প্রতিটি দুম্বা দুই লাখ টাকা করে দাম চাইলেও পরে নয় লাখ টাকা দিয়ে ছয়টি দুম্বা সংগ্রহ করেন। এখন দুটি মা দুম্বা থেকে আরও তিনটি বাচ্চা হওয়ায় দুম্বার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়টিতে।

 

 

দুম্বাগুলো টার্কি জাতের।  দুম্বার খাদ্যাভাস না জানার কারণে শুরুর দিকে খরচ বেশি পড়ছিলো। পরে দেশীয় খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় আর অসুবিধা হচ্ছে না। তিনি বলেন, তাদের মালিক চান দুম্বাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে সহজলভ্য প্রাণী হিসেবে গড়ে তুলতে। তাই প্রথম অবস্থায় দুম্বা বিক্রি না করে তাদের খামারে বংশ বিস্তারের মাধ্যমে আরো অনেক বেশি দুম্বা হলে পর্যায়ক্রমে দুম্বা বিক্রি করবেন তারা। তবে দুম্বার বৃদ্ধি ও লাভ বুঝতে পারায় ভবিষ্যতে এই দুম্বা পালনে ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি। তাদের একজন কুমিরার খামারি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, খামার দুটিতে দুম্বাগুলো দেখে পালনের পদ্ধতি জেনে এসেছি। অল্প দিনেই আমিও দুম্বা পালন শুরু করব। সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া বলেন, সীতাকুণ্ডের দুটি খামারে এখন দুম্বা পালন হচ্ছে। দুম্বার রোগ বালাই কম। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ছোট খামারিরা ঝুঁকি নিতে চান না। দুম্বার খামারগুলোতে তারা বিভিন্ন সময় পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। এ দুটি খামারের সাফল্যে আগামীতে আরো অনেক খামারে দুম্বা পালন শুরু হবে বলে মনে করছেন তিনি।

 

পূর্বকোণ/পিবিরা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট