দেশি আমের পাশাপাশি এখন বান্দরবানে বিদেশি আমের ব্যাপক আবাদ হচ্ছে। বাজারগুলোতে ছেয়ে গেছে নানা রঙের নানা সাইজের বিদেশি আমে। কোনোটি লাল কোনটি হলুদ কোনোটি আবার বেগুনি। আরো আছে একটি আমের ওজনই ৫ কেজি। বিদেশি আমের আবাদে পাল্টে গেছে বান্দরবানের অর্থনৈতিক চিত্র। দেশি আমের পাশাপাশি বিদেশি আম বিক্রি করে এখন অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল স্থানীয় বাগানিরা।
শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটাচ্ছে তা নয়, এই আম এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছে। এছাড়া বিদেশে প্রচুর পরিমাণে রপ্তানির বড় একটি সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বান্দরবানের পাহাড়ে উৎপাদিত আম বিদেশে রপ্তানি হয়েছে।
সরেজমিনে বান্দরবানের বিভিন্নস্থারে ঘুরে দেখা যায় দেশি-বিদেশি আমে জমজমাট হয়ে গেছে বান্দরবান বাজার। বান্দরবান বাজারের বিভিন্নস্থানে এখন বিক্রি হচ্ছে দেশি জাতের রূপালী (আম্রপারি), রাংগোয়াই আর বিদেশি জাতের আম মিয়াজাকি, কাটিমন, কিউজাই, ব্রুনাই কিং, ব্যানানা, রেডপালমার, জাম্বুরা আমসহ বিভিন্ন ধরনের আম। বিদেশি আমই আছে ১৩ টির বেশি জাত। জেলা সদরের বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, আকার ভেদে রূপালী আর রাংগোয়াই ৬০-১০০ টাকা কেজি দরে আর বিদেশি জাতের আম রেডফার্মা ৩০০ টাকা, ব্যানানা ২০০টাকা, কিউজাই ১৮০টাকা, রেডকুইন ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে গত এক দশকে আমের আবাদ আশানুরূপ হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। শুধু স্থানীয় চাহিদাই নয় বান্দরবানের উৎপাদিত আম যাচ্ছে বিদেশেও। আম উৎপাদনে ব্যাপক পরিবর্তন আসায় জেলায় ব্যক্তি পর্যায়ে গড়ে উঠেছে বড় বড় আমের বাগান।
কৃষি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে বান্দরবন থেকে সাড়ে চৌদ্দশ কেজি আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে মেরেডিয়ান আম বাগান থেকে প্রায় তিন মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১০ হাজার ৩৪৪ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। আর উৎপাদন ছিল ১ লক্ষ ২১ হাজার ৮০৮ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ উৎপাদন ছিল ১ লক্ষ বার হাজার ২৮৫ মেট্রিক টন ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরে উৎপাদন ছিল এক লক্ষ ১৩ হাজার ০৭৭ মেট্রিক টন। এখন বিভিন্ন উপজেলায় হচ্ছে বিদেশি জাতের আম। এদিকে সুস্বাদু আর নানা রংবেরঙ এর আম দেখে মুগ্ধ চাষিদের পাশাপাশি ক্রেতারা।
স্থানীয় জেলা সদরের পাইকারি ফল ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস জানান, বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে এখন জন্মাচ্ছে টসটসে দেশি-বিদেশি আম। এই বছর আম, কাঁঠাল, আনারস, লিচু, ড্রাগন ফলের ভালো ফলন হয়েছে বান্দরবানে। হাটবাজারগুলোতে এখন তাল, লিচু, আনারস, কাঁঠালের পাশাপাশি প্রচুর দেশি-বিদেশি আম পাওয়া যাচ্ছে, দামও ক্রেতার হাতের নাগালে। তিনি আরও জানান, এখানে উৎপাদিত ফলগুলো ফরমালিনমুক্ত, তাই বান্দরবান বাজারের পাশাপাশি বান্দরবানের উৎপাদিত ফলগুলো কেরানীহাট, আমিরাবাদ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে সহজেই।
বান্দরবান বাজারের আম বিক্রেতা মো. আফনানুর রহমান বলেন, আমরা বান্দরবানের রুমা উপজেলা ও চিম্বুক পাহাড় থেকে প্রচুর বিদেশি আম পাইকারি ক্রয় করে জেলা সদরে নিয়ে এসেছি এবং তা বান্দরবান জেলা সদরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছি।
লামা উপজেলার মেরেডিয়ান আম বাগানের কৃষিবিদ আবু সাঈদ মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান জানান, চায়নার সাথে চুক্তির আওতায় বান্দরবান থেকে প্রচুর আম এখন বিদেশে যাচ্ছে। শুধু দেশি প্রজাতি নয়, বিদেশি প্রজাতির আমও রপ্তানি হচ্ছে।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আবু নাঈম মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন জানিয়েছেন, জেলায় আম চাষের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা কৃষকদের সমাধানের উপায় বলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আম বিদেশে রপ্তানি বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















