চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তিন কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া তিন কিশোর হলো মোরছালিন (১৪), মেহেরাজ হোসাইন (১৪) ও রাইসুল আহমেদ তৌসিফ (১৪)। তারা গত ৭ জুন বিকেলে ফুটবল খেলার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাদের মধ্যে মোরছালিন ও মেহেরাজ সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে জোরারগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের সন্ধানে অভিযান শুরু করে। পুলিশের একটি টিম অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে পতেঙ্গা থানা এলাকা থেকে তিন কিশোরকে উদ্ধার করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে কিশোররা জানায়, পারিবারিক মানসিক চাপে তারা বাড়ি ছেড়ে চট্টগ্রাম শহরে চলে যায় এবং চাকরি করার পরিকল্পনা করেছিল। সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
মোরছালিনের বাবা মফিজ উদ্দিন বলেন, “তিন দিন ধরে আমরা ছেলেকে খুঁজে বেড়িয়েছি। কোথাও কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। এজন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
মেহেরাজ হোসাইনের বাবা সাদেক হোসেন বলেন, “ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় ছিল। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেছি। অবশেষে পুলিশ তাকে উদ্ধার করায় আমরা খুবই স্বস্তি পেয়েছি।”
রাইসুল আহমেদ তৌসিফের খালাতো ভাই সুলতান আহমেদ নকিব বলেন, “তিনজনের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিলাম। আল্লাহর রহমত ও পুলিশের তৎপরতায় তারা সুস্থ অবস্থায় ফিরে এসেছে। এটি আমাদের জন্য বড় স্বস্তির খবর।”
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “নিখোঁজের অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে পতেঙ্গা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোররা জানিয়েছে, পারিবারিক মানসিক চাপের কারণেই তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
টানা তিন দিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারগুলো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিল। অবশেষে পুলিশের তৎপরতায় নিখোঁজ তিন কিশোরকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

















