চট্টগ্রামের চন্দনাইশ কাঞ্চননগর পাহাড়ি এলাকার নিমঝিরি থেকে অপহৃত দুই কৃষক অবশেষে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হয়েছেন।
সোমবার (৮ জুন) ভোরে তারা পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের বাগানে কাজ করতে গেলে ৩ জন সশস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসী তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃত কৃষকরা হলেন মো. শাহজাহান (৪০) ও মো. আজগর (৪১)।
মুক্ত হয়ে আসার পর ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান সাংবাদিকদের জানান, অপহরণের পর তাদের চোখ বেঁধে অন্য একটি পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে হাত-পা বেঁধে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে বিকাশের মাধ্যমে নগদ ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল। পরবর্তীতে কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের মেম্বার তৌহিদুল আলমের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠানোর পর মঙ্গলবার রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সন্ত্রাসীরা তাদের মোবাইল এবং সিম রেখে দিয়েছে।
অপহরণকারীদের ডেরায় রামুর নুরুল আলম নামে আরও এক অসহায় শ্রমজীবী কৃষককে দেখতে পান শাহজাহান। নুরুল আলম তার পরিবারের মোবাইল নম্বর দিতে না পারায় সন্ত্রাসীরা তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে লাথি মেরে পাহাড় থেকে ফেলে দেয়। দীর্ঘক্ষণ অজ্ঞান থাকার পর জ্ঞান ফিরলে তিনি অনেক কষ্টে লোকালয়ে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সন্ত্রাসীরা তাদের ঘরের অবস্থান ও পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানত, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় কিছু লোক এই সন্ত্রাসী চক্রের সাথে জড়িত রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকাটি পটিয়া ও চন্দনাইশের সীমানায় হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাৎক্ষণিক সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এই সুযোগে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা প্রতিবছর কয়েক দফায় কৃষকদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ‘অপহরণ বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছে।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ইসলাম সিকদার জানিয়েছেন, অপহরণের স্থানটি পটিয়া এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এই অপহরণ আতঙ্ক থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

















