চট্টগ্রাম রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে: আইনমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

৮ নভেম্বর, ২০২৬ | ৭:১৬ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, মানবাধিকার, শিক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। শুধু রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই সমাধান নয়, সেখানে তাদের নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি।

রবিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে নীতি গবেষণা কেন্দ্র আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক নীতি সংলাপে’ বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার বিষয় নয়। মিয়ানমার থেকেই এই সংকটের সূত্রপাত হয়েছে এবং এর সমাধানের দায়িত্বও মিয়ানমারকে নিতে হবে। একইসঙ্গে এ সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও রোহিঙ্গা সংকটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হিসেবে দেখা গেছে। ইউএনএইচসিআরসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর এ বিষয়ে উদ্বেগ ও সম্পৃক্ততা লক্ষ করা গেছে।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকারের বিষয়টি বাংলাদেশের বিবেচনায় রয়েছে। তাদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, মর্যাদা, নাগরিকত্ব এবং নিজ দেশে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যাবাসন হতে হবে মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করেই এসব অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জোর করে মিয়ানমারে পাঠিয়ে দেওয়া কিংবা তাদের ওপর কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া সমাধান হতে পারে না। প্রত্যেক রোহিঙ্গাকে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। সেখানে তাদের নাগরিকত্ব, মানবাধিকার, শিক্ষার অধিকার এবং একজন নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অবস্থানসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ শরণার্থী গ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশের মতো একটি সীমিত অর্থনৈতিক সামর্থ্যের দেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ৮২ থেকে ৯০টি শিশুর জন্ম হচ্ছে। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের ওপর জনসংখ্যাগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ আরও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের সঙ্গে মানবিক বিবেচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়ও জড়িত। তাই বিষয়টি সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এ বিষয়ে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কীভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে।

রোহিঙ্গাদের শিক্ষা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনায় উত্থাপিত দাবির প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবগুলো যৌক্তিক। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, সামাজিক বাস্তবতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নিতে হবে। এসব দিক পর্যালোচনা করেই কার্যকর ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছিল, সেসব অভিজ্ঞতা ও পথ অনুসরণ করে বর্তমান সরকারও সংকটটির একটি কার্যকর পরিণতি নিশ্চিত করতে চায়।

নীতি গবেষণা কেন্দ্রের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট একটি জটিল নীতিগত ও আন্তর্জাতিক বিষয়। এ বিষয়ে অভিজ্ঞ গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরকার শিখতে এবং তাদের পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যেতে আগ্রহী। নীতি গবেষণা কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের পাশে থেকে ওয়াচডগ ও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে। এ বিষয়ে তাদের যেকোনও গঠনমূলক সুপারিশ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ভবিষ্যতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা বা উপস্থাপনা থাকলে সরকার তা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করবে।

নীতি গবেষণা কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ড. শাকিল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের উপদেষ্টা রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।

অনুষ্ঠানে নীতি গবেষণা কেন্দ্রের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট