চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

জাবিতে তালা ভেঙে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

জাবিতে তালা ভেঙে অবরুদ্ধ উপাচার্যকে উদ্ধার করল ছাত্রদল

অনলাইন ডেস্ক

৩ নভেম্বর, ২০২৬ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটে (আইসিএলসি) পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলামসহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে ফটকের তালা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করেন।
 
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই ইনস্টিটিউটের ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী গিয়ে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিলেন।
 
গত সোমবার এক অফিস আদেশে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুরকে ইনস্টিটিউটটির নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় প্রশাসন। তবে এই নিয়োগকে বিধিমালার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে আপত্তি জানান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হক হামিম। অন্যদিকে, ওই শিক্ষককে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
 
মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে সিন্ডিকেট সভা চলছিল। নিজস্ব ইনস্টিটিউট থেকে পরিচালক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা দেন। সভা শেষে উপাচার্য বের হতে না পেরে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা সেখানে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে তালা ভেঙে উপাচার্যসহ অবরুদ্ধদের বাইরে নিয়ে আসেন।
 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাঁদের কথা না শুনে ছাত্রদল ডেকে এনে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছেন। তবে তালা ভাঙার অভিযোগ অস্বীকার করে জাবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তালা ভেঙেছেন, তাঁরা কেবল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
 
এই পরিস্থিতিতে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা থাকলে আলোচনা করতে পারত, কিন্তু প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত করার এখতিয়ার কারও নেই।’
 
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, তালা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থী এবং এর পেছনে ইন্ধনদাতা শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
পূর্বকোণ/এমএইচ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট