চট্টগ্রাম শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

চীনে বাংলাদেশিদের চক্ষু চিকিৎসায় বিশেষ ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু
চীনের কুনমিংয়ে কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়

চীনে বাংলাদেশিদের চক্ষু চিকিৎসায় বিশেষ ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু

অনলাইন ডেস্ক

২৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য চীনে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি রোগীদের বিশেষ সুবিধা দিতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ সেবা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় চীনে যাওয়ার আগেই চিকিৎসাসংক্রান্ত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় নথি পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন রোগীরা। পাশাপাশি হাসপাতালে অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট, দোভাষী সহায়তা এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পরও ফলো-আপ সেবা নিতে পারবেন তারা।
 
শনিবার (২৪ অক্টোবর) চীনের কুনমিংয়ে অবস্থিত কুনমিং হুয়াশিয়া আই হাসপাতালে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু ‘গ্রিন চ্যানেল’-এর ফলক উন্মোচন করেন। একই দিন তিনি ‘হুয়াশিয়া অপথ্যালমোলজি ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম ২০২৬’-এরও উদ্বোধন করেন।
 
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) রিদওয়ানুর রহমান এবং হুয়াশিয়া চক্ষু হাসপাতালের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ঝিইয়ং উপস্থিত ছিলেন।
 
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা এটিই প্রথম। নতুন এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে। বিশেষ করে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া, ভাষাগত জটিলতা দূর করা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পরামর্শ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন তারা।
 
গ্রিন চ্যানেলের আওতায় বাংলাদেশি রোগীরা চীনে যাওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরামর্শ নিতে পারবেন। আগের চিকিৎসার নথি পর্যালোচনার পাশাপাশি হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাদের জন্য থাকবে পৃথক আন্তর্জাতিক ডেস্ক। এ ছাড়া অগ্রাধিকারভিত্তিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও দোভাষী সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে ফেরার পরও প্রয়োজনীয় ফলো-আপ সেবা দেওয়া হবে।
 
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল শাহনাজ রানু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি এবং চক্ষু চিকিৎসায় দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্জন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার ব্যয়ে স্বচ্ছতা, ন্যায্য মূল্য এবং রোগীদের মর্যাদা রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
 
তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশি রোগীদের চীনে চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ বাড়ালেই হবে না, বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা প্রয়োজন।
 
এ সময় বাংলাদেশি চক্ষু চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ, টেলি-কনসালটেশন এবং বাংলাদেশের চক্ষু চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হুয়াশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান শাহনাজ রানু।
 
তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশেই উন্নত চক্ষু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।
 
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, গ্রিন চ্যানেল চালুর ফলে চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি চক্ষু রোগীরা চিকিৎসার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে দেশে ফেরার পরবর্তী সেবা পর্যন্ত একটি সমন্বিত ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে চক্ষু চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদারের সুযোগ তৈরি হবে।
 
পূর্বকোণ/পারভেজ
 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট