শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। মন্ত্রোচ্চারণ, ধূপ ও আরতির মধ্য দিয়ে চলছে দেবীর বন্দনা। ষষ্ঠী থেকে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও আজ শনিবার সপ্তমী থেকেই শুরু হবে মূল পূজা। গতকাল শুক্রবার ষষ্ঠী তিথিতে চণ্ডীপাঠ, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে দেবী দুর্গাকে। এদিন দেবী দুর্গা শক্তি নিয়ে ভক্তদের কাছে পৌঁছান। বোধনের পর খুলে দেওয়া হয় মণ্ডপ। এর মাধ্যমে দেবী জেগে উঠলেন আর তাতে দর্শন করা যাবে দেবীর। শান্তি, সাম্য আর ভ্রাতৃত্বের অমর বাণী শোনাতে এক বছর পরে শারদ উৎসবে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যে এসেছেন দুর্গতিনাশিনী মহামায়া মা দুর্গা। ঢাকের বাধ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খ আর উলুধ্বনির শব্দ এবং ভক্তদের আনাগোনায় এখন মুখরিত পূজা মণ্ডপগুলো। ষষ্ঠী শেষে আজ সপ্তমীর ভোরের আলো ফোটার আগেই দেবীর আরাধনায় মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় করবে পূজারীরা। শাস্ত্রমতে মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। এ সময় পূজারীরা মায়ের সামনে বসে মায়ের মুখ দর্শন করবেন। তিথি অনুযায়ী কাল রবিবারও সপ্তমী অধিক পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
হিন্দু পুরাণ মতে, মহাসপ্তমীতে ভক্তদের কল্যাণ ও শান্তির আশীর্বাদ নিয়ে হিমালয় নন্দিনী দেবী দুর্গা পূজার পিঁড়িতে বসবেন। এরপর শারদীয় দেবী দুর্গার নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন করা হবে। এরপর সপ্তন্যাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দেহ শুদ্ধি, অঙ্গ শুদ্ধি সেরে শুরু হয় পূজা-অর্চনা। এরপর পূজা শেষে দেবীর পায়ে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন ভক্তরা। ঢাকঢোল, শঙ্খ ধ্বনি-উলু ধ্বনি, খোল-কাসাসহ বিভিন্ন ধরনের বাদ্যবাজনা বেজে উঠবে মণ্ডপে। গতকাল পূজার আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও নগরের মণ্ডপে মণ্ডপে ছিল নানা আয়োজন।
এসবের মধ্যে ছিল ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা, চিত্রাঙ্কন ও বস্ত্র বিতরণ প্রভৃতি। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবমুখর এখন বন্দরনগরী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম আগমনের সংবাদে সনাতনীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা আরও বেড়ে গেছে। মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নগরজুড়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে।
পূর্বকোণ/পিআর


















