চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

মন্তব্য প্রতিবেদন

ইসরায়েলে নির্বাচন: নেতানিয়াহুর ভাগ্য ঝুলছে, ঝুলছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎও

ক্ষমতার লড়াইয়ে কে এগিয়ে, সরকার গঠনে কারা হবে নির্ণায়ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে আবারও কি যুদ্ধের দামামা বাজবে?

ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরী, সম্পাদক

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ | ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ

ইসরায়েলের আজকের (২৭ অক্টোবর) সাধারণ নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদলের লড়াই নয়; এটি দেশটির নিরাপত্তানীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কি আবারও ক্ষমতায় ফিরবেন, নাকি সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বে বিরোধীরা নতুন সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন, এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। তবে নির্বাচনের আগের জরিপগুলো যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা ক্ষীণ। ফলে ভোটের ফলাফলের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক দর-কষাকষি।
১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। সর্বশেষ প্রধান টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জরিপে নেতানিয়াহুর জোট প্রায় ৫০ আসন এবং আইজেনকটের বিরোধী শিবির ৫২ থেকে ৫৬ আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আরব-প্রধান দলগুলোর সম্ভাব্য ১৪ থেকে ১৬ আসন এবং ছোট দলগুলোর অবস্থানই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। তবে জরিপ নির্বাচনের ফল নয়; অল্প ব্যবধানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছোট দলগুলোর নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করা কিংবা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনাও আসনবণ্টনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

 

নেতানিয়াহুর জন্য নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে আসে। এরপর গাজায় দীর্ঘ সামরিক অভিযান, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সমালোচনা নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। তাঁর সমর্থকেরা মনে করেন, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তিনি ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন। বিপরীতে সমালোচকদের অভিযোগ, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতার দায় এড়ানো, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করা এবং রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার তাগিদ তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
নেতানিয়াহুর সামনে আরও দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির বিচার। দ্বিতীয়ত, ৭ অক্টোবরের নিরাপত্তাব্যর্থতা তদন্তে স্বাধীন রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের দাবি। নির্বাচনে পরাজিত হলে এসব প্রশ্নে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে। অন্যদিকে, জয় পেলেও তাঁকে জোটসঙ্গীদের চাপ, যুদ্ধের অর্থনৈতিক ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অবনতির মোকাবিলা করতে হবে। অতএব, জয় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারে; কিন্তু তা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নগুলোর অবসান ঘটাবে না।

 

ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ? কে প্রথম আঘাত হানবে?
নির্বাচনের আগে সবচেয়ে উদ্বেগজনক প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হবে কি না। সামরিক প্রস্তুতি, পারস্পরিক হুমকি এবং ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে নানা সংবাদ ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হচ্ছে। ইসরায়েলের সেনাপ্রধান আইয়াল জামির এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরানকে ঘিরে কোনো নির্দেশনা নিয়ে মতবিরোধের খবরও এসেছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এসব প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নেই এবং নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও নেই। ফলে কথিত বিরোধকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
তাহলে কে প্রথম আঘাত হানবে? এই মুহূর্তে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করে বলা অসম্ভব। তবে নির্বাচনের পর সামরিক উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নেতানিয়াহু যদি জয়ী হন, তাহলে তাঁর নিরাপত্তাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো হতে পারে। অন্যদিকে, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলেও ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের মৌলিক নিরাপত্তানীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন। সামরিক সক্ষমতা থাকা আর সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান নির্ভর করবে গোয়েন্দা মূল্যায়ন, সম্ভাব্য পাল্টা আঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং আঞ্চলিক কূটনীতির ওপর। নির্বাচনী সুবিধার জন্য যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ানো হলে তার মূল্য দিতে হবে শুধু ইসরায়েলকে নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে।

 

ট্রাম্পের সমর্থন: নেতানিয়াহুর শক্তি, নাকি রাজনৈতিক চাপ?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে প্রকাশ্যে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁর এই অবস্থানকে নিছক ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ইরানকে মোকাবিলা, গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বৃহত্তর পরিকল্পনায় ওয়াশিংটনের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য অংশীদার প্রয়োজন।
তবে ট্রাম্পের সমর্থনের তাৎপর্য দ্বিমুখী। একদিকে, এটি নেতানিয়াহুর সমর্থকদের কাছে তাঁর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে, এই সমর্থন নেতানিয়াহুকে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা পূরণে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, সিরিয়া ও লেবাননে উত্তেজনা হ্রাস এবং ইরান প্রশ্নে নিজস্ব কৌশলগত লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে নেতানিয়াহুর সঙ্গে মতপার্থক্যও বাড়তে পারে।
প্রকাশ্য সমর্থনের অর্থ এই নয় যে ট্রাম্পের প্রশাসনের সবাই নেতানিয়াহুর নীতির সঙ্গে একমত। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ এবং বিকল্প ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। সুতরাং ট্রাম্পের সমর্থন নেতানিয়াহুর জন্য নির্বাচনী সুবিধা হতে পারে, কিন্তু তা তাঁর ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন কিংবা ভবিষ্যৎ সামরিক সিদ্ধান্তের নিশ্চয়তা নয়।

 

আইজেনকট ও আরব দল: আদর্শ নয়, ক্ষমতার সমীকরণ
নির্বাচন-পরবর্তী সবচেয়ে জটিল প্রশ্নগুলোর একটি হলো, আইজেনকটের বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না। ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট উল্লেখযোগ্য। তাদের সমর্থন ছাড়া নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন হতে পারে।
কিন্তু এখানে রাজনৈতিক বাস্তবতা আদর্শের চেয়ে কঠিন। আইজেনকটসহ মূলধারার ইহুদি বিরোধী নেতারা আরব দলগুলোকে নিয়ে আনুষ্ঠানিক জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের কারও কারও কাছে আরব দলের সমর্থন গ্রহণ করা নির্বাচনীভাবে ঝুঁকিপূর্ণ; আবার আরব দলগুলোর কাছে নাগরিক অধিকার, বৈষম্য হ্রাস, স্থানীয় উন্নয়ন ও আরব জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
তাই তাদের মধ্যে সমঝোতা হলে তা আদর্শিক ঐক্যের চেয়ে বাস্তববাদী রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আরব দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে, যদি বিনিময়ে তাদের জনগোষ্ঠীর জন্য বাস্তব অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু আইজেনকটের সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের কেউ কেউ এমন ব্যবস্থার বিরোধিতা করলে সরকার গঠনের পথ আরও কঠিন হবে।
এখানেই নির্বাচনের প্রকৃত নাটকীয়তা! নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার মতো আসন পাওয়া আর বিকল্প সরকার গঠনের মতো রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা এক বিষয় নয়।

 

ফিলিস্তিনের জন্য কি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে?
ইসরায়েলের নির্বাচনে ফিলিস্তিন প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক আলোচনায় যত গুরুত্বপূর্ণ, দেশটির মূলধারার নির্বাচনী বিতর্কে ততটা প্রাধান্য পাচ্ছে না। নেতানিয়াহুর বিরোধীরা তাঁর যুদ্ধনীতি, নিরাপত্তাব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনার সমালোচনা করলেও ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাঁদের অবস্থান খুব বেশি আশাব্যঞ্জক নয়।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের গবেষণা বিভাগের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আইজেনকটসহ বিরোধী শিবিরের নেতাদের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমর্থন নেই। অধিকাংশের অবস্থানেই ইসরায়েলের সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং অধিকৃত অঞ্চলে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণের ধারণা প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘটলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য ন্যায়সংগত রাজনৈতিক সমাধানের পথ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
তবে নতুন সরকার গঠিত হলে গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থা, বসতি সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে নীতিগত পার্থক্য দেখা দিতে পারে। সেটি ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছু কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন হবে দখলদারত্বের অবসান, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার স্বীকার এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি আন্তরিক অঙ্গীকার।

 

নির্বাচনের পর কী হতে পারে?
সম্ভাব্য পরিস্থিতি তিনটি। প্রথমত, নেতানিয়াহুর জোট প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করে সরকার গঠন করতে পারে, যদিও জরিপগুলোতে সেই সম্ভাবনা দুর্বল। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের বিরোধী শিবির আরব দলগুলোর সমর্থনসহ একটি বিকল্প সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারে। তৃতীয়ত, কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, এমনকি নতুন নির্বাচনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন।
ইসরায়েলের এই নির্বাচন তাই শুধু নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ করবে না; এটি পরীক্ষা করবে দেশটির রাজনীতি যুদ্ধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার মতো বাস্তববাদী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অঙ্কে যে পক্ষই এগিয়ে থাকুক, সরকার গঠনের পর তার সামনে থাকবে নিরাপত্তা, অর্থনীতি, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং আন্তর্জাতিক আস্থার সংকট।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল কি সামরিক শক্তিকে নিরাপত্তার একমাত্র নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করে যাবে, নাকি রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনও স্বীকার করবে? ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে, ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তার অভিঘাত সীমান্ত ছাড়িয়ে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারে।
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা অনেকটা আগুন জ্বালিয়ে রেখে ধোঁয়া দূর করার মতো। স্থায়ী নিরাপত্তার পথ প্রতিপক্ষকে চিরকাল দমন করা নয়; বরং এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উভয় পক্ষের অস্তিত্ব, অধিকার ও নিরাপত্তা স্বীকৃত হবে।
ভোটের ফলাফল রাতারাতি মধ্যপ্রাচ্যের বাস্তবতা বদলে দেবে না। কিন্তু নির্বাচনের পর ইসরায়েলের নেতৃত্ব যে পথ বেছে নেবে, তা নির্ধারণ করতে পারে- এই অঞ্চল আরও একটি সংঘাতের দিকে এগুবে, নাকি দীর্ঘদিনের রক্তপাতের অবসানে রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু কাজে লাগাবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট