দেশের সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না চাপিয়ে বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ধনীদের কর ফাঁকি বন্ধ করতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ লক্ষ্যে কর আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে খুব শিগগিরই ই-রিটার্ন ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রবিবার (১২ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের ২৩তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে দুই সংসদ সদস্যের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান।
নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, করদাতাদের তথ্যভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে সরকারের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এপিআই সংযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। কোন খাত থেকে কী পরিমাণ কর আসা উচিত, তা যাচাই করতে ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষা ও অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮.১৭ শতাংশে নেমে এসেছিল।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে ২০২৬ সালের মে মাসে তা আবার বেড়ে ৯.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজারে অতিরিক্ত চাহিদাজনিত মূল্যস্ফীতি কমাতে নীতি সুদহার (রেপো রেট) ১০ শতাংশের মতো উচ্চস্তরে বহাল রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কেবল চাহিদা নয়, পণ্যের জোগান সংকটের কারণেও মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। এই সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্যাকেজ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়বে, যা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বাজারভিত্তিক নমনীয় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে জানান।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ















