চট্টগ্রামে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র জগন্নাথ দেবের রথযাত্রায় হাজারো ভক্তের ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়েছে রাজপথ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৪টায় নগরীর প্রবর্তক মোড়ে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্যোগে আয়োজিত রথযাত্রা শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
উদ্বোধকের বক্তব্যে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধেরও প্রতীক। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সম্প্রদায়ের সাথে সবসময় ঐক্যের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সকল সনাতনীরা নিশ্চিতভাবে রথযাত্রার আয়োজন করতে পারে। আমি মেয়র হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আমরা সকলকে অনুরোধ করবো সবাই সামাজিক সহবস্থান ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, এদেশের উন্নয়নের সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ সমান সুযোগ, মর্যাদা এবং অংশীদারিত্ব অনুভব করবেন। একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি- বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের অবদান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় অগ্রযাত্রায় সবাইকে সঙ্গে নিয়েই আমরা একটি সমৃদ্ধ, উদার ও আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে হৃদয়ের টানে আজ রথযাত্রায় এসেছি। আমি আপনাদের ভাই-বন্ধু। আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের দুঃখ লাগবের জন্য বৈষম্যহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। হাজার বছরের ইতিহাসে এই ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
রথযাত্রা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সহ-সভাপতি স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারীর সঞ্চালনায় এতে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই-কমিশনার শ্রীহরিশ কুমার, শ্রীমৎ স্বামী পরিতোষানন্দ গিরি মহারাজ, বিশেষ অতিথি ছিলেন চউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট শ্রীযুক্ত চন্দন তালুকদার, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর কে দাশ রুপু, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক শ্রীযুক্ত অর্পন কান্তি ব্যানার্জি, অভয়মিত্র মহাশশ্মান পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক নগর ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল, বিপ্লব দে পার্থ প্রমুখ।
এর আগে ভোরে মঙ্গলারতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার শুভ সূচনা হয়। বিকাল ৩ টায় রথযাত্রার বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয়ে গোলপাহাড়, মেহেদীবাগ, চট্টেশ্বরী, কাজীর দেউড়ি, জামালখান, চেরাগী পাহাড়, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি, কোতোয়ালি ও সিনেমা প্যালেস হয়ে ডিসি হিলে সমাপ্ত হয়। শোভাযাত্রায় চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের অংশগ্রহণের পাশাপাশি চট্টগ্রামের বিভিন্ন নামহট্ট, ভক্তিবৃক্ষ, ইয়ুথ ফোরাম, গীতাপ্রচার বিভাগ, জাগ্রত ছাত্র সমাজ, সংর্কীতন, ফুড ফর লাইফ, নিত্যসেবা, জাগো হিন্দু পরিষদ কেন্দ্রিয় কমিটি, শারদাঞ্জলি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, রাধা বিনোধ কেন্দ্রিয় পরিষদ, সনাতনী স্বেচ্ছাসেবক ফাউন্ডেশন ও মুচকি হাসি পরিবার, বাংলাদেশ হিন্দু ছাত্র মহাজোট, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, শ্যামলী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট,, ভ্রাম্যমাণ গীতা প্রচার সংঘ, ঋষি মতিলাল স্মৃতি সংসদ, বিশ্ব সনাতন ঐক্য, বীর সনাতনী সংঘ, কোজাগরী সংঘ, হিন্দু সংহতি, পোর্ট সিটি ইউনিভার্সিটি, রাম সেবক, সনাতন সংগঠন, ইউএসটিসি, মেডিকেল সার্ভিস টিম, কোজাগরী পূর্ণিমা উদযাপন পরিষদ, শারদাঞ্জলি ফোরামসহ ১০০টিরও বেশি বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষক বিভিন্ন পৌরাণিক সাজসহ অংশগ্রহণ করেন।
পূর্বকোণ/রাজীব















