আমদানিকৃত পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, সময়োপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব করার আহ্বান জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)। একই সঙ্গে কাস্টমসে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা, সমন্বয়হীনতা ও অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া দূর করে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
রবিবার (১২ জুলাই) ভারপ্রাপ্ত সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আহসান হাবিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
চিঠিতে বলা হয়, দেশের ব্যবসা পরিচালনার সহজীকরণ ও ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে এনবিআর চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য খালাস সম্পন্ন করার নির্দেশনাসহ অচল স্থানের সুবিধা চালুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দেন। এসব উদ্যোগকে ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছে।
তবে নীতিগত নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কাস্টমস কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার অভাব, যাচাই-বাছাইয়ের দীর্ঘসূত্রতা, প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে দ্রুত পণ্য খালাসের কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জিত হচ্ছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থা একই পণ্যের নমুনা আলাদাভাবে সংগ্রহ করে পরীক্ষা করায় সময় ও ব্যয় উভয়ই বাড়ছে। একটি স্বীকৃত পরীক্ষাগারের পরীক্ষার ফল সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার কাছে গ্রহণযোগ্য করার ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ জটিলতা অনেকাংশে দূর হবে। পাশাপাশি পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগেরও সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া ই-কমার্স ও কুরিয়ার সেবার মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পৃথক ও কার্যকর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) শুল্কায়ন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা, অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা কমানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাস্টমস কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিকভাবে কাস্টমস ব্যবস্থাপনা দ্রুত ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় হলেও বাংলাদেশে এখনও অনেক ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রক্রিয়া বহাল রয়েছে। এতে পণ্য খালাসে বিলম্বের পাশাপাশি ব্যবসার প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম চেম্বার মনে করে, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সময়োপযোগী করা গেলে আমদানিকৃত পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত হবে, ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমবে এবং দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য পরিবেশ আরও গতিশীল হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণে এনবিআরের সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।















