অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পুনর্বহালসহ ১০ দফা দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন দেশের পাঁচটি ইসলামী ধারার ব্যাংকের ভুক্তভোগীরা।
সোমবার (২২ জুন) সকাল থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচি শেষে আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে তাদের ১০ দফা দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেয়।
১০ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাদের পূর্বের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধাসহ অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করা। দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন এবং ব্যাংকিং খাতে করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা।
এছাড়া ব্যাংকের সব পর্যায়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করাসহ প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে ব্যাংকের কাউন্টারে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ থাকা সত্ত্বেও যেসব কর্মকর্তা গ্রাহকদের টাকা না দিয়ে কৃত্রিম সংকট ও আতঙ্ক তৈরি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৫৭ ধারা অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার এবং ৫ আগস্টের পর ব্যাংকিং খাতে সংঘটিত সব অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর প্রভাবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে ব্যাপক হারে ছাঁটাই ও প্রশাসনিক হয়রানি করা হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বলেন, ৫ আগস্টের পর কোনো রকম মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিমালা না মেনেই আমাদের শাস্তিমূলক বদলি, আইডি ইনঅ্যাকটিভ এবং সবশেষে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমরা আমাদের অধিকার ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাব।
পূর্বকোণ/পিআর















