চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

আজ সবার নজর আর্জেন্টিনার উপর

আজ সবার নজর আর্জেন্টিনার উপর

নিখিল রঞ্জন দাশ

২২ জুন, ২০২৬ | ১:১৯ অপরাহ্ণ

সাম্বা নাচে ছন্দে ফিরেছে ব্রাজিল। নেদারল্যান্ডসও জানিয়ে দিল আমরাও পিছিয়ে নেই। প্রথম ম্যাচের মত এবারও জার্মানরা জানাল আমাদের সমীহ করে চলতে হবে। রইল বাকি দুই, আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তাদের ঘিরেই আজকে আমাদের বিশ্বকাপ পর্ব। আজ আর্জেন্টিনা খেলবে রাত ১১টায় ডালাসের ৯৪ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন এটি এন্ডটি স্টেডিয়ামে ।

 

ডালাস মানেই কাউবয়, তাই জেরি জোন্সের নামানুসারে সবাই এই মাঠটাকে জেরি ওয়ার্ল্ড নামে চেনে। মেসির হ্যাটট্রিক এর মধ্যে দিয়ে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে। আর অস্ট্রিয়া জর্ডানের বিরুদ্ধে ১-০ তে পরাজিত হয়েছে। তাই জে গ্রুপের এই ম্যাচের দিকে সবাই তাকিয়ে। কেননা আজ আর্জেন্টিনার জয় তাদের গ্রুপ শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করবে। আজকে মেসি কি পারবে, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার জায়গটা দখল করে নিতে। সবাই আজকের ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে। আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি আর্জেন্টিনা কোন ছকবাঁধা ফুটবল খেলছে না। খেলার সাথে টক্কর দেয়ার জন্য কখনো ৪-৩-৩ আবার কখনো ৪-৪-২ ফরম্যাটে মেসিকে সহায়তা করার জন্য দলের অন্যতম চৌকস খেলোয়াড় আলভারেস, মার্টিনেজ, ওতামন্দিকে এগিয়ে দেয়া হচ্ছে। মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তারে দি পল, ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার নিজেদের উজাড় করে দেন মেসিকে যাতে বাড়তি কোন চাপ নিতে না হয়।

 

তাছাড়া এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, জর্ডান আর অস্ট্রিয়ার মত প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনার এগিয়ে যাওয়া অনেক সহজ করে দিয়েছে। অস্ট্রিয়া প্রথম ম্যাচে হারলেও দলটির একটা লড়াকু মানসিকতা আমরা দেখেছি। দলটি যথেষ্ট সংগঠিত, তাই তীব্রগতি আর আগ্রাসী মনোভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা করবে। আর বড় ম্যাচে স্মায়ুর চাপ সামলে ভয়ডরহীন ফুটবল খেলতে অভ্যস্ত। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক মানসিকতা তাদের ব্যর্থতাও ডেকে আনতে পারে, অভিজ্ঞতায়ও তারা পিছিয়ে। তাই অঘটন প্রত্যাশা করাটা হয়ত অত্যুক্তি হবে। আর্জেন্টিনা আজকে ফেবারিট।

 

আজ সকাল ৭টায় শুরু হওয়া নিউজিল্যান্ড-মিসর ম্যাচকে ঘিরেও দর্শক সমর্থকরা জল্পনা কল্পনায় মেতেছেন। নিউজিল্যান্ড প্রথম ম্যাচে ইরানের সাথে ২-২ গোলের সমতায় খেলা শেষ করেছে এবং মিসর বেলজিয়ামের সাথে ১-১ গোলে ড্র করেছে। তাই শক্তিমত্তার বিচারে কারা এগিয়ে থাকবেন এটাই সবার কৌতূহল। নিউজিল্যান্ড নিজেদের অর্ধে খেলা তৈরি করে চেষ্টা করে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাওয়ার, দলটির খেলোয়াড়দের দলগত বোঝাপোড়া, শৃঙ্খলা ও সেটপিসে দক্ষতায় অন্যদের চাইতে এগিয়ে। তবে দলে ফিনিশারের অভাব আমরা আগের ম্যাচে দেখেছি। দলটি অনেকটা ক্রিস উডের উপর নির্ভরশীল। কিন্ত তাকে সহায়তা করার জন্য ফরোয়ার্ডের অভাব রয়েছে। তবে মিসর মানেই মোহাম্মদ সালাহর দল। দল হিসেবে ভারসাম্যপূণ। রক্ষণ মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু কয়েকজন খেলোয়াড়ের উপর অতিনির্ভরশীলতা তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। তাই বিশ্বকাপে এটাই তাদের সাফল্যের অন্তরায় হতে পারে। ফলাফল নিউজিল্যান্ড ২, মিসর ১ হতে পারে।

 

তবে আজকে রাত ৩টায় ফ্রান্স ও ইরাক ম্যাচে সবার নজর। প্রথম ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ গোলে সেনেগালকে হারিয়েছে আর ইরাক নরওয়ের বিপক্ষে পরাজিত হয়েছে ৪-১ গোলে। ফ্রান্স মানেই কোচ দিদিয়ের দেশম এর তত্তাবধানে একঝাঁক তারাকা এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিকে, দুয়ে, মার্কাস, থুরামের সমন্বয়। তাই অনেকে বলছেন ফ্রান্স এবার বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম দাবিদার। তবে ইরাক দলের কঠিন মনোবল, বড় দলের বিপক্ষে লড়াকু মানসিকতা সবার মুখে মুখে। রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে বড় দলের বিরুদ্ধে তাদের উপস্থিতি জানিয়ে দেবে। যদিও ফ্রান্সকে সবাই ৮০-২০ ভাগে এগিয়ে রাখছে।

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট