চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

মাজারের সেই কুমির ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে

মাজারের সেই কুমির ১৯ দিনেও খাবার তোলেনি মুখে

অনলাইন ডেস্ক

২২ জুন, ২০২৬ | ২:৩৭ অপরাহ্ণ

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের দিঘি থেকে সরিয়ে আনা সেই কুমির নতুন ঠিকানায় এসে অভিমানে যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে । খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনার পর কেটে গেছে ১৯ দিন। মাছ, মুরগি কিছুই খাচ্ছে না প্রায় ৪৫ বছর বয়সী মাদি কুমিরটি। এমনকি সহজ শিকারের জন্য জীবন্ত হাঁস বেঁধে রাখা হলেও সেটিও খায়নি।

 

মুরগি দেওয়া হয়েছে, পানিতে বেঁধে দেওয়া হয়েছে হাঁস; কিন্তু কিছুতেই আগ্রহ নেই। ১ জুন সন্ধ্যায় মাজারের দিঘিতে ফাতেমা নামের এক শিশুকে কুমিরটি টেনে নিয়ে যাওয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপর ৩ জুন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বহু চেষ্টায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় নিয়ে আসে।

 

বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে চেনা পরিবেশে ফিরতে ছটফট করছে কুমিরটি । বারবার ধাক্কা দিচ্ছে খাঁচার গেটে। বন বিভাগ বলছে, মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শর্তে মাজার কমিটি কুমিরটিকে আবারও দিঘিতে ফিরিয়ে নিতে পারবে। বর্তমানে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরীসৃপ প্রাণী দীর্ঘ সময় না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। কুমিরটির শারীরিক অবস্থার আপাতত উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।

 

১ জুন বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টেনে নিয়ে যায় কুমিরটি। ওই ঘটনায় শিশুটির মৃত্যুর পর জননিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। পরদিন রাতে প্রাণীটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে আসে। এর পর থেকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে আছে।

 

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনার ডিএফও (বিভাগীয় বন কর্মকর্তা) নির্মল কুমার পাল বলেন, মানুষ ও কুমির উভয়ের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কুমিরটি মাঝেমধ্যেই দিঘি থেকে লোকালয়ে চলে যেতো। এতে যেমন মানুষের ওপর আক্রমণের ঝুঁকি থাকে, তেমনই ক্ষুব্ধ জনতা কুমিরটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলার আশঙ্কাও থাকে। মাজার কমিটি যদি দু-এক মাসের মধ্যে উভয় পক্ষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আমাদের জানায়, তবে কুমিরটিকে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো।

 

কুমিরটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান এই কর্মকর্তা। তার ভাষ্য, এটি মিঠাপানির কুমির। লোনাপানির সুন্দরবনে ছেড়ে দিলে সেটি টিকে থাকতে পারবে না। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কুমিরটি তুলনামূলক বড় পরিসরে বিচরণ করার চেষ্টা করছে। পানির বাইরে উঠে এটি প্রায়ই গেটের কাছে গিয়ে ধাক্কা দেয়। অর্থাৎ বৃহত্তর পরিবেশে যাওয়ার প্রবণতা তার মধ্যে আছে।

পূর্বকোণ/রাকিব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট