২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব অভিহিত করেছেন চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিডব্লিউসিসিআই) প্রেসিডেন্ট আবিদা সুলতানা। তবে নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র শিল্প (CMSME) খাতের টেকসই উন্নয়নে বাজেটে ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর কার্যকর ও দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
বাজেট পরবর্তী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবিদা সুলতানা বলেন, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের জন্য করমুক্ত বার্ষিক আয়ের সীমা ৫০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব একটি অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ। এর ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের করের চাপ কমবে এবং তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির আওতায় আসতে উৎসাহিত হবেন। এছাড়া বাজেটে এসএমই উদ্যোক্তা তহবিলে ২,০০০ কোটি টাকা এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরির তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাবকেও তিনি স্বাগত জানান।
প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে সিডব্লিউসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, স্টার্টআপদের জন্য টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করা এবং ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য উৎসে কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ বাড়াবে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও লিথিয়াম ব্যাটারির মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে শুল্ক সুবিধা সবুজ অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
তবে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ এবং কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধিকে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আবিদা সুলতানা। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বল্প সুদে ও জামানতবিহীন অর্থায়নের বিষয়ে আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনার দাবি জানান।
উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে আবিদা সুলতানা কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন। যার মধ্যে রয়েছে— নারী উদ্যোক্তাদের জন্য স্বতন্ত্র কর রেয়াত, সরকারি ক্রয়ে অন্তত ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, প্রতিটি জেলায় ‘উইম্যান বিজনেস ফেসিলিটেশন সেন্টার’ ও ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা এবং নারী পরিচালিত স্টার্টআপের জন্য পৃথক ‘ইনোভেশন ফান্ড’ গঠন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সিডব্লিউসিসিআই দীর্ঘদিন ধরে নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের লক্ষ্যে কাজ করছে। বাজেটের ইতিবাচক দিকগুলো বাস্তবায়িত হলে নারী নেতৃত্বাধীন শিল্পায়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্য আরও বেগবান হবে।

















