নগরীর খুলশী থানার আমবাগান থেকে ডবলমুরিং থানার ঝর্ণাপাড়া। পুরো এলাকায় মাদক বেচাকেনা করেন আলমগীর। মাদক বিক্রির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখতে একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। মাঝে মাঝে দেন অস্ত্রের মহড়াও।
এ নিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে নগর পুলিশের উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) নিজ দায়িত্বে নিজ হাতে আলমগীরকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেন। তবে ডিসি তিন সপ্তাহ আগে এই ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত আলমগীর অধরা।
জানতে চাইলে খুলশী থানার পরিদর্শক (ওসি) আরিফুল ইসলাম জানান, আলমগীরকে গ্রেপ্তারে শতভাগ চেষ্টা করছি। তার বাসা আমবাগান এলাকায় হলেও সেখানে নিয়মিত থাকেন না। বেশিরভাগ সময় সে ঝর্ণাপাড়া এলাকায় থাকে। ওই এলাকাটি ডবলমুরিং থানা এলাকায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, থানা পুলিশের সঙ্গে আলমগীরের ‘সুসম্পর্ক’ রয়েছে। আলমগীর একা নন। তার পুরো পরিবার মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। মাদক বেচাকেনা করার সুবিধার্থে রাত ৯টার মধ্যে স্থানীয় দোকানদারদের দোকান বন্ধ করতে বাধ্য করেন। কথা না শুনলে মারধর শুরু করেন।
গত ১৫ মে রাত ৯টার সময় ঝর্ণাপাড়া এলাকায় সদলবলে গিয়ে ককটেল বিস্ফোরণ করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক সৃষ্টি করেন আলমগীর। এরপর এলাকার লোকজন বের হয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে স্থানীয় মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেয়। পরে এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলমগীর গ্রুপের ধাওয়া পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ সময় সাধারণ মানুষের তোপের মুখে নগর পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কথা দিচ্ছি আমি
নিজ দায়িত্বে নিজ হাতে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করবো’।
স্থানীয় লোকজন জানান, পরিবারের সঙ্গে আলমগীর আমবাগান এলাকায় থাকে। তার মায়ের নাম রেনু বেগম। এলাকার লোকজনের কাছে সোনিয়ার মা হিসেবে পরিচিত। জাহাঙ্গীর নামে তার এক ভাই আছে। তার পরিবারের সবাই মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছে মা-ছেলে সবাই। তবে জামিনে বের হয়ে ফের মাদক বেচাকেনা করে। কেউ কিছু বললেই সদলবল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে আলমগীর।
এদিকে, গত ১৮ মে আলমগীরকে গ্রেপ্তার করার দাবিতে পাহাড়তলী ঝর্ণাপাড়া এলাকার লোকজন প্রতিবাদ সভা করে। স্থানীয় জাহেদুল আলম সেকুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই সভায় বক্তারা বলেন, সন্ত্রাসী আলমগীর ও তার বাহিনীর সশস্ত্র অত্যাচারে ঝর্ণাপাড়া ও সরাইপাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে। আলমগীর তার সশস্ত্র লোকজন নিয়ে কোন কারণ ছাড়া সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের রাত ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য করছে। তার নির্দেশ অমান্য করলে ব্যবসায়ীদের মারধর করা হয়। আলমগীরের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। ডিসি আমিরুল হক আলমগীরকে গ্রেপ্তার করার ঘোষণা দিলেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণে আলমগীরের দাপট আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন প্রতিবাদ সভার বক্তারা।
দক্ষিণ পাহাড়তলীর ঝর্না পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহজাহান অভিযোগ করেন, ডবলমুরিং থানার একাধিক পুলিশের সঙ্গে আলমগীরের সুসম্পর্ক রয়েছে। তার অপরাধের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে আমরা একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তার কাছে অস্ত্রও রয়েছে।
শাহজাহান বলেন, ঝাউতলা, নালাপাড়া, টাইগারপাস, ঝর্ণাপাড়া ও আমবাগান এলাকায় একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপ রয়েছে আলমগীরের। তার বিরুদ্ধে ডবলমুরিং থানা পুলিশের কাছে কোন খবর দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে চলে যায়।
পূর্বকোণ/রাকিব

















