চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

৪ লেনের সড়কে ট্রাকস্ট্যান্ড-রিকশা গ্যারেজ

পলিটেকনিক মোড়-বাংলাবাজার

৪ লেনের সড়কে ট্রাকস্ট্যান্ড-রিকশা গ্যারেজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৮ জুন, ২০২৬ | ১:৪৯ অপরাহ্ণ

চার লেনের প্রশস্ত সড়ক। কার্পেটিংও করা হয়েছে নতুন করে। তবে পলিটেকনিক মোড়-বাংলাবাজারের মধ্যে সংযোগকারী সুন্দর এই সড়ক দিয়ে স্বস্তিতে গাড়ি চালানো যায় না। কারণ সড়কটি দখল করে বানানো হয়েছে ট্রাক, টেম্পো স্ট্যান্ড আর রিকশার গ্যারেজ। এর পাশাপাশি কাঁচাবাজার আর হকার বসায় পুরো সড়ক এখন অবৈধ দখলদারদের ব্যবসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

 

স্থানীয়দের দাবি, সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু অসাধু ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে দখলদাররা পুরো এলাকাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবশালী মহলের নাম ব্যবহার করে তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে জনগণের অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সাধারণ মানুষের ব্যবহার উপযোগিতা হারাচ্ছে।

 

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাবাজার এলাকায় যান চলাচলের রাস্তার ওপরই বসেছে কাঁচাবাজার। আল আমিন মসজিদ থেকে বিএসআরএম গুদাম পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে কাভার্ডভ্যান, পিকআপ ও টেম্পো। টেক্সটাইল মোড় ও টেকনিক্যাল মোড়ে তৈরি হয়েছে সিএনজি ট্যাক্সি ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্ট্যান্ড। এছাড়া ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে খাবারের দোকান, চায়ের স্টল ও হকারদের পসরা।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান- কাভার্ডভ্যান, ট্রাকের মতো বাণিজ্যিক গাড়ি বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার সময় আবেদনকারীকে তার গাড়িটি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে- এমন নিশ্চায়ন প্রদান করতে হয়। নিশ্চায়নের পরেও সড়কে গাড়ি রাখলে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত বা বাতিলের সুযোগ রয়েছে। টেক্সটাইল এলাকায় সড়ক দখল করে গাড়ি রাখলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

পলিটেকনিক মোড়-বাংলাবাজার সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করেন পাশের গ্রিনভ্যালি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা অলিউর রহমান। তিনি বলেন, এতো সুন্দর একটি সড়ক এভাবে দখল হয়ে আছে- অথচ আমাদের কর্তাব্যক্তিদের কোনো গরজ নেই। মাত্র এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হয় না এখানে কোনো কার্যকর প্রশাসনিক নজরদারি রয়েছে।

 

রবিবার অলিউরের সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিলো- পাশেই ছিলেন জামাল উদ্দিন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই যুবক বলেন, এটি শিল্প এলাকা। যে কোনো সময় বড় অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আল্লাহ না করুন- এমন কিছু ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যে দ্রুত প্রবেশ করবে সে অবস্থাও নেই। সামান্য চাঁদাবাজি আর মাশোহারার জন্য একটি সুন্দর সড়কের এই অবস্থা চলতে পারে না।

 

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, ট্রাক চালক বা গ্যারেজের লোকজনদের কিছু বলা যায় না। বলতে গেলেই মারমুখী আচরণ করে। তাদের জন্য আবাসিক এলাকার নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারে না। কলেজ-স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে তারা। আমরা চাই মেয়র মহোদয় দ্রুত একশন নিক। দখলদারদের উচ্ছেদ করুক।

 

এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, সড়ক দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ নেই। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সড়ক দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। জনগণের সড়ক জনগণের চলাচল নিশ্চিত করা হবে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট