চাহিদা হ্রাস, কাঁচামাল ও উৎপাদন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, উচ্চ সুদের ঋণ, অনুকূল নয় এমন করনীতি এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশের সিমেন্ট শিল্প বর্তমানে তীব্র চাপের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) প্রেসিডেন্ট ও চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা এবং কার্যকর সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
তিনি বলেন, বৃহৎ অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সিমেন্টের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত আবাসন নির্মাণ (ইন্ডিভিজুয়াল হাউস বিল্ডিং) ও অ্যাপার্টমেন্ট খাত প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। শিল্প কারখানা ও বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেও স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় সিমেন্টের ব্যবহার আরও কমেছে।
আমিরুল হক বলেন, আমদানিনির্ভর এই শিল্পে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে কাঁচামাল ও উৎপাদন উপকরণের খরচ বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্লিংকার, স্ল্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের মতো প্রধান কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয়ে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, সিমেন্ট একটি পরিবহননির্ভর পণ্য। সম্প্রতি জ্বালানি ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কাঁচামাল পরিবহন এবং উৎপাদিত পণ্য সরবরাহের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার, যা উৎপাদকদের অর্থায়ন ব্যয় বাড়িয়ে লাভজনকতা ও নগদ প্রবাহে চাপ সৃষ্টি করছে।
কর ও শুল্ক কাঠামো নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিসিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, সিমেন্ট শিল্পের পাঁচটি প্রধান কাঁচামাল—ক্লিংকার, স্ল্যাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম আমদানিতে বর্তমানে ২ থেকে ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হচ্ছে। এই হার কমিয়ে ০.৫০ শতাংশ এবং বিক্রয় পর্যায়ে ২ শতাংশের পরিবর্তে ০.৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হলে উৎপাদকরা উপকৃত হবেন এবং কর সমন্বয়জনিত জটিলতাও কমবে।
সম্প্রতি ঘোষিত বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ শতাংশ বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি সিমেন্ট শিল্পের উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে এবং খাতটির ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।
দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিমেন্ট রপ্তানি আয় বৃদ্ধির স্বার্থে শিল্পবান্ধব নীতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।
পূর্বকোণ/আরআর

















