টানা অতি ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের মহেশখালীতে জমে থাকা পানিতে ডুবে আজিজ নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবক আজিজ ওই এলাকার বাসিন্দা ছাবের আহমেদের ছেলে।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সাইরারডেইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, টানা বৃষ্টিতে বাড়ির উঠান ও ঘরে পানি ঢুকে পড়লে তা বের করতে গিয়েছিল আজিজ। পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে তিনি উঠানে ইট ও মাটি দিয়ে পথ তৈরি করছিলেন। একপর্যায়ে দরজার পাশ দিয়ে পানি বের করার সময় কখন তিনি পানিতে পড়ে যান, তা পরিবারের কেউ খেয়াল করেননি। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী ঘরের দরজা খুলে বাইরে এসে দেখেন, আজিজ উঠানের জমে থাকা পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসছেন। পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় তথ্যমতে টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার কালারমারছড়া, শাপলাপুর, হোয়ানক, ছোট মহেশখালীর বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ১০ থেকে ১২টি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৭ জন।
উপজেলার কালারমারছড়া চালিয়াতলী এলাকার শিকড়তলী নামক গ্রামে পাহাড়ধসে তিনটি বাড়ির একাংশ ভেঙে যায়। এতে আহত হয় নারীপুরুষসহ ৩ জন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোরে শাপলাপুর, হোয়ানক, কালারমারছড়ার বড়ুয়া পাড়ায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পৃথক ঘটনায় বাড়িঘরের দেয়াল, আসবাবপত্রের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি আহত হয়েছে অন্তত ৪ জন। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, ভারি বৃষ্টিপাতে মহেশখালীতে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চলমান। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সে সব স্থানে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পূর্বকোণ/পিআর















