সাগর পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারকারী টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়া বড় ডেইল এলাকার বাসিন্দা ছৈয়দুল হক প্রকাশ লেইঙ্গা ছৈয়দুলকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (৭ জুন) বিকেলে রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের কমুনিয়া এলাকায় অবস্থিত তার দ্বিতীয় বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ছৈয়দুল হক মৃত কবির আহমদের ছেলে।
অভিযান চলাকালে তার বাড়ি থেকে মানবপাচার সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তিপত্র, একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং মানবপাচার ও হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।
খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক জানান, ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসার পর থেকে তার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র টেকনাফ, উখিয়া, রামু ও কক্সবাজার এলাকায় গড়ে ওঠে। এই চক্রের মাধ্যমে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাকে প্রলোভন দেখিয়ে এবং অর্থ আদায়ের মাধ্যমে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়, হত্যা ও গুমের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে।
স্থানীয়দের মতে, ছৈয়দুল হক শারীরিকভাবে পঙ্গু হলেও তার জীবনযাপন অত্যন্ত বিলাসবহুল। বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক বাড়ি ও ফ্ল্যাট রয়েছে এবং তিনি বিলাসবহুল গাড়িতে চলাফেরা করেন। তার বাড়ির চারপাশ ব্যাপক সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থায় ঘেরা ছিল । সম্প্রতি সাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার ডুবিতে আড়াই শতাধিক মানুষ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার নাম আসার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করে বলেন , ছৈয়দুল হকের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মানবপাচার মামলা রয়েছে। এছাড়া নামের ভিন্নতার কারণে অন্য থানায় থাকা আরও মামলার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তার সাথে দেশি-বিদেশি অপরাধী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কোনো যোগাযোগ আছে কি না, পুলিশ তাও তদন্ত করে দেখছে। বর্তমানে তাকে রামু থানায় রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ


















