সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন।
শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির যুগ্ম-সমন্বয়ক মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন ও অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী এ উদ্বেগ জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, মন্ত্রীর পদত্যাগের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা, মতামত ও জল্পনা-কল্পনা চলছে। এ ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিদ্যমান অনিশ্চয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
তারা অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের একশ’ দিন অতিক্রম করলেও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ বা দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে দেশবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মন্ত্রীর পদত্যাগকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনমনে সন্দেহ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটি পুনর্গঠন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করা জরুরি।
একইসঙ্গে চুক্তির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিমন্ত্রীকে প্রত্যাহারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
যুগ্ম-সমন্বয়কদ্বয় সরকারের প্রতি অবিলম্বে সময়সীমাবদ্ধ চুক্তি বাস্তবায়ন রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চুক্তির অন্যতম পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সঙ্গে অর্থবহ সংলাপ শুরুর দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রশ্ন কেবল একটি আঞ্চলিক বা প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, বহুজাতিক বাস্তবতা এবং ‘রেইনবো নেশন’ বিনির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় রাজনৈতিক প্রশ্ন। এ কারণে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে সর্বদলীয় জাতীয় সংলাপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষে তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েন। নির্বাচন-পরবর্তী ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাসের মাথায় শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোমবার পদত্যাগ করেন এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ।
পূর্বকোণ/এএইচ


















