ঘরোয়া ক্রিকেটের সব সংস্করণের আসরে ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে হঠাৎ ডাকা এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত মে মাসেই প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ম্যাচ ফি ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন তামিম। ছয় মাসের ব্যবধানে সেটি আরও বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় লাখ টাকা। তবে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট এই সিদ্ধান্তের আওতার বাইরে থাকছে।
বিসিবির টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণে এত দিন একজন ক্রিকেটার ম্যাচ ফি হিসেবে পেতেন ৫০ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ টাকা। আর টি-টোয়েন্টিতে ৪০ হাজার টাকার ম্যাচ ফি দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার টাকা।
বিসিবি এরই মধ্যে জানিয়েছে, জোড়াতালি দিয়ে আর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজন করতে চায় না তারা। কিন্তু বিপিএল না হলে ক্রিকেটারদের আয়ের বড় একটি উৎসও বন্ধ হয়ে যায়। বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে তাই ক্রিকেটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা।
এ নিয়ে গত পরশু ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল বিসিবি। সেখানে জাতীয় লিগ ও অন্যান্য ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ম্যাচ ফি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। এক দিন পরই সেই প্রতিশ্রুতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
ভবিষ্যতে ম্যাচ ফি আরও বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দুই বছর পর যখন এটাকে আবার রিভিউ করবো, বিসিবির অবস্থান যদি ভালো থাকে, আয় যদি আরও বাড়ে, আমরা এটাকে আরও বাড়াবো।’
ম্যাচ ফি বাড়ানোর ফলে একজন ক্রিকেটার বছরে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তামিম। তবে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকেও আরও বেশি পেশাদারিত্ব প্রত্যাশা করছেন তিনি।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে যে চাওয়া, এটা এখন ওদেরও পূরণ করতে হবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেশাদারিত্ব নিয়ে অনেক ধরনের আলোচনা হয়। ওটাতে কোনো ছাড় নেই। যখন কেউ ফিটনেস টেস্ট পাস না করে এটা নিয়ে অনুরোধ করে—তখন এসব নিয়ে কিছু শোনা হবে না।’
ম্যাচ ফি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্তে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আর্থিক নিরাপত্তা যেমন কিছুটা বাড়বে, তেমনি বিসিবির প্রত্যাশা-এর বিনিময়ে মাঠে ও মাঠের বাইরে ক্রিকেটারদের পেশাদারিত্বও আরও বাড়বে।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















