চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে: এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৮:৫১ অপরাহ্ণ

আগস্ট মাসে দেশে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ৫৩৬ জন আহত হয়েছেন। আগের মাসের তুলনায় এ মাসে সহিংসতা ও হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। জুলাইয়ে ৪৫টি সহিংসতায় নিহত হন ৬ জন ও আহত হন ১৬৪ জন। আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে ২০টিই ছিল বিএনপির অন্তঃকোন্দল। এসব ঘটনায় ৫ জন নিহত ও কমপক্ষে ১৫২ জন আহত হন। বিএনপি–জামায়াতের মধ্যে ১৮টি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও ২৩৩ জন আহত হন। বিএনপি–আওয়ামী লীগের মধ্যে ৭টি সংঘর্ষে একজন নিহত ও ২৬ জন আহত হন। বিএনপি–এনসিপির মধ্যে ৬টি সংঘর্ষে আহত হন ১৬ জন। অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির ১০টি সংঘর্ষের ঘটনায় ৩৮ জন আহত হন। বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও ৯টি সংঘর্ষে আহত হন ৭১ জন। আগস্টে নিহত ৭ জনের মধ্যে বিএনপির ৫ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন ও জামায়াতের একজন নেতাকর্মী রয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের অন্তত ১৩টি ঘটনায় আহত হন ২১৬ জন। এর মধ্যে ছাত্রদল-শিবিরের মধ্যে ৮টি ঘটনায় ১৮১ জন এবং ছাত্রদল, অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫টি সংঘর্ষে ৩৫ জন আহত হন। আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজি নিয়ে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। 

 

এইচআরএসএস জানায়, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর দুষ্কৃতিকারীদের হামলার অন্তত ৪টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৩ জন আহত হন। অন্তত ১২ জন নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়াও সারাদেশে আধিপত্য বিস্তার, দখলদারিত্ব, রাজনৈতিক সহিংসতা ও চাঁদাবাজিকেন্দ্রিক ১৯টি ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান, দলীয় কার্যালয়ে সংঘর্ষ, হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আগস্ট মাসে কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। 

 

রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নামে ৬২টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এক হাজার ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও প্রায় ২ হাজার ২০৯ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। একই মাসে রাজনৈতিক ও অন্যান্য মিলিয়ে মোট ১৬২টি ঘটনায় ১২ হাজার ৮২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ৪২৯ জন নেতাকর্মী, বিএনপির ২২ জন, জামায়াতে ইসলামীর ৪ জন, এনসিপির ৯ জন এবং উগ্রপন্থি সংগঠনের ৫ সদস্য রয়েছেন। 

 

মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার, ধর্মীয় অবমাননাসহ নানা অভিযোগে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার অন্তত ৫৩টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২ জন।

 

আগস্ট মাসে অন্তত ৩২টি ঘটনায় ৪৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানায় এইচআরএসএস। সভা–সমাবেশ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ মাসে ১৩টি সভা ও সমাবেশ আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বাধা দিয়েছে। এসব ঘটনায় ৬১ জন আহত হন এবং ৮ জনকে আটক করা হয়। 

 

এ মাসে সারাদেশের কারাগারে কমপক্ষে ৬ জন আসামি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের একজন ও পাঁচজন সাধারণ কয়েদি ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্ট মাসে নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থানে হত্যাকাণ্ডের ৮২টি ঘটনায় ৮৭ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। 

 

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগস্টে আটটি ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হামলায় ২ জন নিহত হয়েছেন এবং একজন আহত হয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশইন এবং ১৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে।

 

এ মাসে ২৪৯ জন নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন, যাদের মধ্যে ৪৬ জন ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরী। ১৮ জন নারী ও কন্যা শিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে ৯৩ জন নারী ও কন্যা শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, এরমধ্যে শিশু ৩৮ জন।

 

এইচআরএসএস’র নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতা, বিশেষ করে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, গণপিটুনি ও মব সহিংসতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্তে সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব বিষয় সমাধান করা না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

পূর্বকোণ/আরআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট